নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহর থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তভার পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) থেকে অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক ডোবা থকে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে এ তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, ‘অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় ৩ জুন রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বাদী হয়ে ছয় জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও অনেককে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলার পাঁচ আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর মামলাটি আজ ডিবি থেকে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।’ সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এহসানউদ্দিন চৌধুরী মামলাটি তদন্ত করবেন বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের পর পুরো এলাকায় তল্লাশির চালানোর পর আরেকটি রকেট শেল ও বেশ কিছু ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস পাওয়া গেছে। আর অস্ত্র নেই, এটা নিশ্চিত হয়ে তল্লাশি অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।’
প্রসঙ্গত, গত ১ জুন রাতে শুরু হয়ে পরদিন বিকাল পর্যন্ত রূপগঞ্জের ওই ডোবা থেকে ৬২টি এসএমজি, দুইটি দূরবীন, দুটি রকেট লঞ্চার, এসএমজির ৪৪টি ম্যাগজিন, পাঁচটি পিস্তল, ৪৯টি শেল, দুইটি ওয়াকিটকি, ৪২টি হাতে তৈরি গ্রেনেড, বিভিন্ন ধরনের ডিভাইসসহ বিপুল পরিমাণ গোলা-বারুদ উদ্ধার করা হয়। এরপর ৩ জুন উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের বাসুন্দ্র আতলাবো এলাকার শীতলক্ষ্যা নদী থেকে আরও পাঁচটি এসএমজি উদ্ধার করা হয়। এরপর গত ৭ জুন পানি নিষ্কাশনের এক পর্যায়ে আরেকটি রকেট শেল উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ৩ জুন রূপগঞ্জ থানায় মামলা হয়। মামলায় অস্ত্র নিজেদের হেফাজতে রাখার অভিযোগে ছয়জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ ৫ আসামিকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে শরীফ নামে একজনকে ২৮ মে আটক করে। তার দেওয়া তথ্যে ২ জুন শাহীন ওরফে সানা, রাসেল ও শান্ত নামে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং ৩ জুন গ্রেফতার করা হয় মুরাদ নামে অন্য একজনকে।
৪ জুন বিকাল ৩টায় ৫ আসামিকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। আদালত শুনানি শেষে আট দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
/এমএ/টিএন/