লংগদুতে হামলার ঘটনায় ৯ জনের ৩ দিনের রিমান্ড

লংগদুতে অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়িদের বাড়িঘররাঙামাটির লংগদু উপজেলায় যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন হত্যাকাণ্ডের জের ধরে পাহাড়িদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নয় জনের বিরুদ্ধে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার (১১ জুন) রাঙামাটি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ঝুমা সরকারের আদালতে এই নয় জনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। পরে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন— শাহ আলম, এম এ হালিম, রহমান, আ. জব্বার, রহিম, শরিফ, জিয়াবুল ও রহমান। বাকি একজনের নাম জানা যায়নি।
আদালতের পরিদর্শক রঞ্জন সামন্ত বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রাঙামাটি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ঝুমা সরকারের আদালতে আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ১ জুন লংগদু উপজেলার সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের লাশ দীঘিনালার চারমাইল এলাকায় পাওয়া যায়। স্থানীয় বাঙালিরা এই ঘটনার জন্য পাহাড়ের আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে দায়ী করে। এই ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন ২ জুন সকালে নয়নের লাশ নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা সদরে আসার পথে পাহাড়িদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এসময় শতাধিক বাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওইদিন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। পরের দিন তা প্রত্যাহার করা হয়

এ ঘটনায় ৩ জুন পুলিশ বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে তিনশ জনের নামে মামলা দায়ের করে। পরে রবিবার (১১ জুন) আরও ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিনশ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে

এদিকে, শুক্রবার (৯ জুন) খাগড়াছড়ির দিঘীনালা থেকে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হলে তারা নয়ন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেয় বলে জানায় পুলিশ। নয়নের মোটরসাইকেলটিও দিঘীনালার মাইনী নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দুই ব্যক্তি রমেল চাকমা ও জুনেল চাকমা পুলিশকে জানিয়েছে, মোটরসাইকেল ছিনতাই করার জন্যই তারা নয়নকে হত্যা করে। তবে নয়ন হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মোটরসাইকেলটি কোথাও নিয়ে পারেনি হত্যাকারীরা। সেটি বিক্রি করতে না পেরে তা মাইনী নদীতে ফেলে দেয় তারা।

আরও পড়ুন-
বান্দরবানে আধাবেলা হরতাল চলছে

লংগদু হামলার ঘটনায় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত রিপোর্ট

/টিআর/