রাঙামাটিতে উদ্ধার অভিযান ফের শুরু সকালে

রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাস্তা (ছবি- ফোকাস বাংলা)রাঙামাটিতে স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে মঙ্গলবার (১৩ জুন) সন্ধ্যার পর। রাতের অন্ধকারে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকার কারণেই স্থগিত রাখা হয়েছে অভিযান। বুধবার (১৪ জুন) সকালের আলো ফুটলেই ফের উদ্ধার অভিযান শুরু হবে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা থেকে বিশেষ দলও আসার কথা রয়েছে বুধবার। বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মানজুরুল মান্নান।
গত কয়েকদিনে প্রবল বর্ষণের কারণে রাঙামাটি শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড় ধসে কমপক্ষে ৯৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, বান্দরবান ও চট্টগ্রামেও পাহাড় ধসের ঘটনায় নিহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ৩২ জন। সোমবার (১২ জুন) মধ্যরাত থেকে শুরু করে মঙ্গলবার (১৩ জুন) রাত পর্যন্ত প্রাণহানির এই তথ্য পাওয়া গেছে। তিন জেলার মধ্যে বান্দরবানে উদ্ধার অভিযান শেষ হলেও রাঙামাটি ও চট্টগ্রামে উদ্ধার অভিযান এখনও শেষ হয়নি। নিহতের সংখ্যা তাই আরও বাড়তে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাঙামাটিতে পাহাড় ধসপাহাড় ধসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে রাঙামাটিতে। এই জেলায় মঙ্গলবার ভোর থেকেই চলছে উদ্ধার অভিযান। তবে এদিন সন্ধ্যার পর অভিযান স্থগিত করা হয়। রাতে কাজ করার উপযোগী সরঞ্জাম না থাকার কারণেই অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক মানজুরুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘কাল (বুধবার) সকালে যত দ্রুতসম্ভব উদ্ধারকাজ শুরু হবে।’ উদ্ধার অভিযান বেগবান করতে বুধবার চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা থেকে ৮০ জনের বিশেষ একটি উদ্ধার দলের আসার কথা আছে বলেও জানান তিনি।
পাহাড় ধসের ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি রাঙামাটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া জেলার প্রায় ৩০ কিলোমিটার যান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণরূপে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ পার্শ্ববর্তী সব জেলার সঙ্গেই যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে রাঙামাটিতে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ফিরিয়ে আনা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর সঙ্গে রাঙামাটির যোগাযোগ সচল করাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
পাহাড় ধসের ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মানজুরুল মান্নান বলেন, ‘লংগদুর ঘটনাটি (বসতিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া) ছিল মানবসৃষ্ট। আর এটি (পাহাড় ধস) প্রাকৃতিক ঘটনা। তবে এই ঘটনাতেও মানুষের হাত রয়েছে। বিভিন্ন পাহাড়ি ঢালে যেভাবে মানুষ বসবাস করে থাকে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটা বন্ধ করার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’

আরও পড়ুন-

পাহাড়ে লাশের পাহাড়!

আতঙ্কের পাহাড়ে এখন আহাজারি আর আর্তনাদ

রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে সেনা কর্মকর্তাসহ নিহত ৯৮

পাহাড় ধস: নিহতদের পরিবার পেল ২০ হাজার টাকা

রাঙামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে নিহত ১৩০

রাঙামাটিতে পাহাড় ধস: খোলা হয়েছে ১০টি আশ্রয়কেন্দ্র

/টিআর/