বান্দরবানে ত্রাণ পাননি অনেকেই, রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট

বান্দরবানে সেনাবাহিনীর উদ্ধার অভিযান (ছবি- ফোকাস বাংলা)

পাহাড় ধসের ঘটনায় বান্দরবান জেলার অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সব হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই জানিয়েছেন, সরকারিভাবে তাদের যে সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, তা একদিনেই শেষ হয়ে গেছে। অনেকে আবার কোনও ত্রাণই পাননি। ক্ষতিগ্রস্তদের বড় একটি অংশ ঘরবাড়ি হারিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাসায় আশ্রয় নিলেও বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকটের মধ্যে রয়েছেন। অনেকে আবার জানিয়েছেন, গায়ে দেওয়ার মতো তাদের কাছে কোনও কাপড়ও নেই। এদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল তা বিতরণ করা হয়েছে। আবার বরাদ্দ আসার সঙ্গে সঙ্গে তা বিতরণ করা হবে।

কালাঘাটার জাকির হোসেন নামে ক্ষতিগ্রস্ত একজন বলেন, ‘ত্রাণ দেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। কিন্তু পরে যখন ত্রাণ নিতে এসেছি, তখন ত্রাণ শেষ হয়ে গেছে বলে জানানো হয়। আমি কাল কিছু পাইনি, আজও  কিছু পাইনি।’

ইসলামপুর এলাকার মো. জসিম নামে ক্ষতিগ্রস্ত অন্য একজন বলেন, ‘আমার পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে থাকাকালীন একবার কিছু শুকনো খাবার পেয়েছিল। এছাড়া বৃহস্পতিবার আমি কয়েক কেজি চাল পেয়েছি। এরপর আর কিছুই পাইনি। আজ বাড়ি ফিরে এসে দেখি, এখানে থাকার জায়গা পর্যন্ত নেই। একমাত্র টিউবওয়েলটিও নষ্ট হয়ে গেছে। খাবার পানিও নেই ঘরে।’

জসিম ও জাকিরের মতো ক্ষতিগ্রস্তদের আরও অনেকে জানান, সরকারিভাবে যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল তা একবেলাতেই শেষ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (১৫জুন) কিছু চাল বিতরণ করা হয়। কিন্তু শুক্রবার আর কাউকে কিছু দেওয়া হয়নি। সব এলাকার ক্ষতিগ্রস্থরাই বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন।

বান্দরবানে পাহাড় ধস (ছবি- ফোকাস বাংলা)

আর্মি পাড়ার বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, ‘শুকনো বিস্কিট, আর অল্প কিছু চাল দিয়ে কী হয়? সামনেই ঈদ। আমাদের এখনই পরার মতো কোনও কাপড় নাই। আমার বাচ্চারা ঈদের দিন কী পরবে? আমি কী করে তাদের কাপড় কিনে দেব? লোকদেখানো সরকারি এসব সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন নাই।’

জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনই ক্ষতিগ্রস্থদের সরকারি বিধি ও নির্দেশ মোতাবেক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। কেউ যেন এক বেলাও খালি পেটে না থাকে, সেজন্য প্রশাসন সজাগ আছে। ক্ষতিগ্রস্থ প্রত্যেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য পৌরসভাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যতদিন পর্যন্ত এলাকার টিউবওয়েল ঠিক না হবে বা বিশুদ্ধ পানির অভাব দূর না হবে ততদিন পর্যন্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হবে।’

তিনি আরও জানান, ‘যারা ত্রাণ পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন, কেন তারা ত্রাণ পায়নি, তা গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।’

তিনি জানান, এ পর্যন্ত ৫শ' ৩১টি পরিবারের মধ্যে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। সংকট নিরসন না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যত্রম অব্যাহত থাকবে।’

/এমএ/