বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ২টায় জেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান ডা. মকবুল হোসেনকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’ এসময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু ও কয়েকজন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
এদিকে, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর বগুড়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের আগে উচ্চ আদালতে একাধিক রিট হওয়ায় ওই নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। রিট নিষ্পত্তির পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২৫ মে। এতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন ডা. মকবুল হোসেন।
এরপর গত ৭ জুন শিবগঞ্জের মোকামতলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফাহিমা বেগম নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত রাখতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আবেদন করেন। নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত করতে পরদিন (৮ জুন) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুর রহমান দুলুর ভাগ্নে খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল ফারুকের পক্ষে হাইকোর্টে রিট করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ন কবীর মঞ্জু। বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক শুনানি শেষে নির্বাচনের ফলাফল ও গেজেটসহ যাবতীয় কার্যক্রম রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেন।
আদালতের এই স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও মকবুল হোসেনের শপথ নেওয়ায় আদালত অবমাননার মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট হুমায়ন কবীর মঞ্জু। তিনি বলেন, ‘১৪ জুন থেকে আগামী দুই মাস উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। তা সত্ত্বেও শপথ বাক্য পাঠ করানো আদালত অবমাননার শামিল। তাই এ বিষয়ে রিটকারী আব্দুল্লাহ আল ফারুকের পক্ষে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করব।’
এদিকে, নির্বাচিত চেয়ারম্যান ডা. মকবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি যেন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ না করতে পারি, সেজন্যই আসাদুর রহমান দুলু ষড়যন্ত্র করছেন। তিনিই ভাগ্নেকে দিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করিয়েছেন।’ তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দুলু।
আরও পড়ুন-
মাঝ পদ্মায় দুই ইউটিলিট ফেরির মধ্যে সংঘর্ষ
গাইবান্ধায় প্রকৌশলীসহ ৮ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
/টিআর/