ঈদের তৃতীয় দিন নরসিংদী সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, বহিঃবিভাগে বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের রুমে তালা ঝুলছে। বাকিদের রুম খোলা থাকলেও দেখা যায়নি কোনও চিকিৎসককে। ফলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহিঃবিভাগসহ সবক্ষেত্রেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে মোট চিকিৎসক রয়েছেন ২৯ জন। এর মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ১০ জন। এর মধ্যে আবার ছুটিতে রয়েছেন চার জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
হাসপাতালের বহিঃবিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের তৃতীয় দিন হাসপাতালের বহিঃবিভাগ খোলা থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন অনেকেই। কিন্তু বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের রুমে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঝুলেছে তালা।
রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করছেন, কয়েকটি রুম খোলা থাকলেও ভেতরে চিকিৎসক ছিলেন না। চিকিৎসক আসবেন ভেবে বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা দীর্ঘ লাইন দিয়ে কাউন্টার থেকে টিকেট কেটে অপেক্ষা করেছেন। কিন্তু চিকিৎসকের দেখা মেলেনি। পরে বাধ্য হয়ে বিনা চিকিৎসায় ফিরে গেছেন শত শত রোগী।
একইভাবে দুর্ভোগে পড়েন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীরাও। বেশিরভাগ চিকিৎসক হাসপতালে না থাকায় চিকিৎসা সেবা পাননি তারাও।
একইভাবে হাসপাতালে অনুপস্থিত ছিলেন সিনিয়র গাইনি কনসালট্যান্ট ডা. মাকসুদা হক, গাইনি কনসালট্যান্ট ডা. মাহবুবা হক, গাইনি চিকিৎসক রোজি সরকার ও অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. আওলাদ হোসেন রিপন।
এসব বিশেষষ্ণ চিকিৎসকের রুমের সামনেও শিশু ও নারীসহ বিভিন্ন বয়সী রোগীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকায় বৃদ্ধ রোগীদের বসে থাকতে হয়েছে হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে।
রায়পুরা থেকে আসা হাবিবুল্লাহ মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দশ মাস বয়সী অসুস্থ বাচ্চা সালমানকে নিয়ে সকাল ৮টা থেকে রুমের সামনে বসে আছি ডাক্তারের অপেক্ষায়। কখন ডাক্তার আসবেন কেউ বলতে পারছেন না।’
নরসিংদী পৌরসভা এলাকার বানিয়াছল মহল্লার মালতি সূত্রধর বলেন, ‘জ্বরে আক্রান্ত দুই বছর বয়সী নাতি রুদ্রকে নিয়ে সকাল থেকে বসে আছি। কিন্তু ডাক্তারের খবর নেই। বাধ্য হয়ে ফিরে যাচ্ছি।’
চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে উত্তেজিত হয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আমিরুল হক শামীম সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাসপাতালে কতজন ডাক্তার আছেন, কে কে ছুটিতে আছেন এমন প্রশ্ন আপনারা আমাকে করতে পারেন না।’ ছুটিতে থাকা চিকিৎসকদের বাদ দিয়ে বাকিরা সবাই হাসপাতালে আছেন বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘মেহমান আসায় শিশু বিশেষজ্ঞ মহসিন উদ্দিন আহমেদ সেলিম বাসায় গেছেন।’
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. সুলতানা রাজিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সদর হাসপাতালের চারজন চিকিৎসক ঈদের ছুটিতে আছেন, বাকিরা কর্তব্যরত। আমি সকালে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। ঈদের ছুটিতে তারা পরিশ্রম করেছেন। তাই হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। এরপরও কেউ অনুপস্থিত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন-
মহাসড়কে চালকদের প্রাণঘাতী প্রতিযোগিতা
নয় জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২৩ জনের
/এসএমএ/টিআর/