কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা শহরের বামনপাড়া তালতলা এলাকায় জঙ্গি অভিযান ‘টেপিড পাঞ্চ’ ঘটনায় এখনও কোনও মামলা দায়ের হয়নি। রবিবার ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর হেসেন খন্দকার বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেছেন, শনিবার জঙ্গিবিরোধী অভিযান ‘টেপিড পাঞ্চ’ সম্পন্ন হলেও এ ঘটনায় এখনও কোনও মামলা দায়ের হয়নি। তবে মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে। আজ রাতের মধ্যে মামলা হতে পারে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আটক ৩ নারী জঙ্গি বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা তালতলা মসজিদের পাশে একটি বাড়িতে জঙ্গিরা অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বাড়িটি ঘিরে ফেলে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটসহ (সিটিটিসি) ভেড়ামারা থানা পুলিশ, কুষ্টিয়া পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি যৌথ টিম। রাত ৩টার দিকে পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট যৌথভাবে বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে তিনজন নারী জঙ্গিকে আটক করে।
আটককৃতরা হলো বর্তমানে নব্য জেএমবির আমির আইয়ুব বাচ্চুর ওরফে সজিবের স্ত্রী আশরাদি জাহান তিথি ও নিউ জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড’র স্ত্রী রাজিবুল ওরফে রাশেদ ওরফে তালহার স্ত্রী সুমাইয়া এবং ভেড়ামারা উপজেলার ঠাকুর দৌলতপুর এলাকার আরমানের স্ত্রী টলি আরা। এসময় তিথি’র সঙ্গে তার ৫ মাস বয়সী মেয়ে এবং টলি আরা’র সঙ্গে তার সাড়ে ছয় বছর বয়সী মেয়ে রয়েছে।
এর মধ্যে তিথির বাড়ি বগুড়া জেলায়। সুমাইয়ার বাড়ি নাটোর জেলায় বলে ধারণা করছে পুলিশ।
একইদিন বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে ঘটনাস্থলে বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা পৌঁছালে শুরু হয় অপারেশন ‘টেপিড পাঞ্চ’। তারপর পৌনে ৬ টার দিকে তারা মূল অভিযান শুরু করে। অভিযানে ১০ কেজি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য, দুইটা সুইসাইডাল ভেস্ট, একটি পিস্তল, ম্যাগজিন ও গান পাউডার উদ্ধার করা হয়। এরপর রাত সাড়ে ৯টায় প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ২২ ঘণ্টার এ অভিযান চূড়ান্তভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করেন খুলনার অতিরিক্ত ডিআইজি হাবিবুর রহমান।
/টিএন/