সিলেটে নিহত কলেজছাত্র সাইফুলের কম্পিউটার জব্দ, থানায় মামলা

সাইফুল ইসলাম

সিলেট নগরের শিবগঞ্জ লামাপাড়ায় এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম খুনের ঘটনায় নিহতের পিতা আরজন আলী বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় অজ্ঞাত ৩/৪জনকে আসামি করে রবিবার (২ জুলাই) তিনি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর পুলিশের একটি দল সাইফুলের বাসা থেকে একটি কম্পিউটার জব্দ করে থানায় নিয়ে গেছে।

এর আগে রবিবার দুপুরে নিহতের লাশ ময়না তদন্ত শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় হবিগঞ্জের নৈখাই থানার জিরনদা গ্রামে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে সাইফুল ইসলাম হত্যার পেছনে প্রেমসংক্রান্ত কোনও ঘটনা রয়েছে। তার কম্পিউটারে বেশ কয়েকজন মেয়ের ছবিও পাওয়া গেছে। রহস্যের জট খুলতে এইসব ছবি নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে পুলিশের একটি তদন্তকারী দল।

উল্লেখ্য, বুকে ছুরির আঘাতে অতিরিক্ত রক্তকরণের কারণে সাইফুলের মৃত্যু হয় । তার পরিবার দীর্ঘদিন থেকে শিবগঞ্জ লামাপাড়ার মোহিনী-৬৬ নং ভাড়াটিয়া ঘরে বসবাস করে আসছেন।
সাইফুলের মা নূরুন্নাহার জানান, সাইফুল চলতি বছরে সীমান্তি আইডিয়াল স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করে। এরপর সে কোন কলেজে ভর্তি হয় তা তিনি জানাতে পারেননি। ৩ মেয়ে ও ২ ছেলের মধ্যে সাইফুল ছিল ৫ম।  সাইফুলের বাবা শরবত বিক্রি করে টাকা জমিয়ে ছেলের অনেক দিনের আবদার করা একটি কম্পিউটার কিনে দিয়েছেন রমজান মাসের শেষের দিকে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নিহত সাইফুলের কম্পিউটার থেকে বেশ কয়েকজন তরুণীর ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই সব ছবি দিয়েই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তরুণীদের মধ্যে একজনকে টার্গেট করেই চলছে তদন্ত। খুব শিগগিরই এ মামলার জট খুলবে। আমাদের ধারণা, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রেম সংক্রান্ত কোনও ঘটনা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন জানান, এখনও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে যাচ্ছে। নিহত সাইফুলের কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই। আর্থিক লেনদেনও নেই। কারও সঙ্গে বিরোধ আছে কিনা সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারছে না তার পরিবার। প্রেম সংক্রান্ত কারণে তাকে খুন করা হতে পারে এমনটি ধারণা করা হচ্ছে।

/টিএন/