ঘরের মেঝে খুঁড়ে শিশু তামিমের লাশ উদ্ধার






ঘরের মেঝে খুঁড়ে শিশু তামিমের লাশ উদ্ধার। ছবি- প্রতিনিধিচাচাতো ভাইয়ের বসত ঘরের মেঝে খুঁড়ে মৌলভীবাজার থেকে কামরান আহমদ তামিম (৬) নামের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের সাধুহাটি গ্রামের আল আমিনের বসত ঘর থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রবিবার একজন এবং সোমবার ১৪জন আটক করে পুলিশ। মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল আহাম্মদ বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আটকদের মধ্যে নিহত কামরানের চাচাতো ভাই আল আমিন (২৬), আল আমিনের বন্ধু রবিউল মিয়া (২৫) ও জনি মিয়ার (২২) নাম প্রকাশ করেছে পুলিশ।
ওসি মো. সোহেল আহাম্মদ জানান, ‘রবিবার (২ জুলাই) দিবাগত রাতে শিশু কামরানের চাচাতো ভাই (মৃত ছখাওয়াত মিয়ার ছেলে) আল আমিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বসতঘরের মেঝে খুঁড়ে মুখেচোখে টেপ দিয়ে মোড়ানো কামরানের লাশ উদ্ধার করা হয়।’
মৌলভীবাজারে অপহরণের ৬ দিন পর শিশুর লাশ উদ্ধারনিহত শিশুর দাদা এবাদত মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কামরানের বাবা কয়েছ মিয়া ওমান প্রবাসী। কামরান বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) সকাল ৯টার দিকে বাড়ির ভেতর সাইকেল চালাচ্ছিল। সেখান থেকে নিখোঁজ হয়। বিকালে তার চাচা রাসেলের ফোনে কল করে এক ব্যক্তি ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়। বিষয়টি মৌলভীবাজার মডেল থানার পুলিশকে জানানোর পর পুলিশ অভিযান চালায়। ওই দিন রাতেই শিশুর এক আত্মীয় লিটন মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের অভিযুক্ত করে মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর পুলিশ রবিবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টায় অপহৃত শিশু কামরানের বাবা কয়েছ মিয়ার চাচা মৃত ছখাওয়াত মিয়ার ছেলে আল আমিনকে আটক করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ঘরের মেঝে খুঁড়ে কামরানের লাশ উদ্ধার করে।’
এবাদত মিয়া আরও বলেন, ‘নিহত শিশু কামরান স্থানীয় মনুমুখ ইউনিয়নের সাধুহাটি গ্রামে উদয়ন কেজি অ্যান্ড হাইস্কুলের প্লে গ্রুপের ছাত্র ছিল। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মা শিল্পী বেগম (২৫) অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
/এনআই/