ভূমিধসের কারণ চিহ্নিতকরণ ও ভবিষ্যতে করণীয় নির্ধারণের ব্যাপারে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষে কাজ শুরু করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গঠিত ২৭ সদস্যের কমিটি। এর অংশ হিসেবে কমিটির সদস্যরা আজ মঙ্গলবার (৪ জুলাই) রাঙামাটি ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) বান্দরবান যাচ্ছেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার সম্মেলন কক্ষে নব গঠিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কমিটির আহ্বায়ক এবং দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সত্যব্রত সাহা এ তথ্য জানান।
সভায় সত্যব্রত সাহা বলেন, ‘গত ১৫ জুন দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় রাঙামাটি ও বান্দরবানে ভূমিধসের কারণ চিহ্নিতকরণ ও ভবিষ্যতে করণীয় নির্ধারণের বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষে একটি কমিটি গঠন করে। কমিটিতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ২৭ জন প্রতিনিধি রয়েছেন। ধসের কারণ অনুসন্ধানে আজ আমরা রাঙামাটি যাচ্ছি, আগামীকাল বান্দরবান যাবো। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আমরা কথা বলবো।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সুপারিশ জমা দেওয়ার ব্যাপারে কমিটিকে কোনও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তবে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার চেষ্টা করবো। কেবল সুপারিশ জমা দেওয়াই নয়; বরং তা যেন কার্যকর করা হয়, সে লক্ষেও আমরা কাজ করে যাবো।’
এর আগে ২০০৭ সালে ভয়াবহ পাহাড় ধসের পর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের (রাজস্ব) নেতৃত্বে একটি কারিগরি কমিটি গঠিত হয়। ওই কমিটি ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের বিপর্যয় না ঘটে, সে বিষয়ে ৩৬ দফা সুপরিশ প্রণয়ন করে।
এ নিয়ে সত্যব্রত সাহা বলেন, ‘২০০৭ সালে প্রণয়ন করা ৩৬ দফা সুপারিশ বিবেচনায় রেখে একটি কার্যকর কর্মপন্থা নির্ধারণ করবো আমরা। সরেজমিন পরিদর্শনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড় ধসের কারণ চিহ্নিত করে তা করা হবে।’
সভায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) সৈয়দা সারোয়ার জাহান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব নন্দ দুলাল বণিক, যুগ্ম-সচিব মো. নুরুল আলম চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল হক, জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল জলিলসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
/এমএ/