কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাংলা ট্রিবিউনকে কথাগুলো বলছিলেন গাজীপুরের কোনাবাড়ী (নয়াপড়া) এলাকায় মাল্টিফ্যাবস লিমিটেড নামের পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে নিহত গিয়া উদ্দিনের ছোট ভাই রিয়াদ। তিনি বলেন, ‘পাঁচ ভাই, দুই বোনের মধ্যে ভাই (গিয়াস উদ্দিন) ছিল সবার বড়। আমি দুই মাস হলো ঢাকার একটি টেইলারিং কারখানায় কাজ শিখছি। বাকি ভাই-বোনদের সবাই পড়ালেখা করে। ভাইয়ের উপার্জনেই ভাই আর আমাদের সংসার চলত। আমি জানি না এখন আমরা কিভাবে চলব। ভাইয়ের মেয়ের বয়স মাত্র দেড় বছর। বাবাকে চেনার সুযোগই পেলো না মেয়েটা।’
এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মাহবুব হোসেন। তার বড় ভাই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কনস্টেবল হামিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ছোট ভাই মাহবুবের বিয়ে নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করছিলেন বাবা-মা। তারা ভাবছিলেন, তাদের দ্বিতীয় ছেলেটির বিয়ে দিয়ে সংসারী করবেন। মাহবুবও স্বাবলম্বী হতে বয়লার অপারেটরের চাকরি নেয়। আর সেই বয়লার বিস্ফোরণের কারণেই আজ মাহবুব আর আমাদের মধ্যে নেই। রাত ২টার সময় (সোমবার দিবাগত রাত) বাবা-মাকে ফোনে জানিয়েছি ওর মৃত্যুর খবর। এরপর থেকে তারা কোনও কথা বলতে পারছেন না। বড় ভাই হয়ে আমিই বা কিভাবে মেনে নিতে পারি আদরের ছোট ভাইয়ের এই অকালমৃত্যুর খবর?’
ফেনী সদর উপজেলার মাছিমপুর গ্রামের মাহমুদুল হকের ছেলে এরশাদ উল্লাহ (৩৫) গত চার মাস আগে বিয়ে করেন একই জেলার সোনাগাজী উপজেলার মিয়ারবাজার গ্রামের সাথী আক্তারকে। মা-বাবা, ভাই-ভাবি ও স্ত্রীসহ কোনাবাড়ী এলাকায় ভাড়া থেকে চাকরি করতেন মাল্টিফ্যাবসে। সেই চাকরিই কেড়ে নিয়েছে তার জীবন। বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় স্বামীকে হারিয়ে তাই স্ত্রী সাথী আক্তার পাগলপ্রায়। বার বার মূর্চ্ছা যাচ্ছেন তিনি। স্বামী হারানোর বিলাপই এখন তার নিত্যসঙ্গী।
মোর্শেদের স্ত্রী স্ত্রী কল্পনা আক্তার জানান, কারখানার কাছেই তাদের বাসা। দৌঁড়ে এসে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করেন স্বামীকে। মোর্শেদ এখন কোনাবাড়ী শরীফ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরও পড়ুন-