সনদ জালিয়াতিসহ তিন মামলায় প্রধান শিক্ষকের ১২ বছরের কারাদণ্ড

আদালত

শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতিসহ তিন মামলায় ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ডেবরা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিনকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। বুধবার (৫ জুলাই) দুপুরে ঝালকাঠির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু মো. শামীম আজাদ এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত আইনজীবী (এপিপি) সঞ্জীব বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এপিপি সঞ্জীব বিশ্বাস জানান, প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিনকে সনদ জালিয়াতি ও সরকারি কাজে বাঁধা দানের মামলায় পাঁচ বছর করে ১০ বছর ও প্রতারণা মামলায় দুই বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসময় মো. রুহুল আমিন আদালতে হাজির ছিলেন।

সাজাপ্রাপ্ত মো. রুহুল আমিন ডেবরা গ্রামের নজরুল ইসলাম হাওলাদারের (নজির মাস্টার) ছেলে।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ভুয়া সনদের অভিযোগে গত ১০ বছর ধরে রুহুল আমিনের এমপিও স্থগিত রয়েছে। জাল সনদে শিক্ষকতা, প্রতারণা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ২০১১ সালের ২৬ জুন রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে নলছিটি থানায় মামলা করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম হারুন অর রশিদ। মামলায় সাক্ষী করা হয় উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার মো. ইউনুচ আলী আকন, উপজেলা মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. আবুল বাশার তালুকদার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (সনদ) সরদার মো. এরশাদ, যশোর শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) মো. আজমল গনিসহ সাতজনকে। মামলাটি তদন্ত করে ২০১১ সালের ১০ অক্টোবর দণ্ডবিধির ৩৫৩, ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘স্কুলের চাকরিতে যোগদানের সময় রুহুল আমিনের দাখিল করা এসএসসি, এইচএসসি সনদকে যশোর শিক্ষা বোর্ড এবং বিএ ও বিএড পরীক্ষার সনদকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভুয়া বলে প্রত্যয়ন করেছে। তার বিরুদ্ধে শিক্ষাগত সনদ জালিয়তি, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।’ ২০১৩ সালের ৮ এপ্রিল এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

এর আগে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসারের তদন্তে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনের শিক্ষাগত সকল সনদই ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। এর প্রেক্ষিতে ২০০৭ সালের জুনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই শিক্ষকের এমপিও স্থগিত করেন। পরে ওই স্কুলের শিক্ষকদের মাসিক হাজিরা খাতায় রুহুল আমিনের এমপিও স্থগিতের বিষয়টি উল্লেখ করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। ওই সময় এমপিও স্থগিতের বিষয়টি মাসিক হাজিরা খাতায় উল্লেখ না করতে হুমকি ও চাপ সৃষ্টি করেন রুহুল আমিন। এ অভিযোগে পরে তার বিরুদ্ধে অন্য একটি মামলা করা হয়।

/এমএ/