বান্দরবান ও মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

 

Bandarban-pic-(1)বান্দরবান ও মৌলভীবাজারে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা থেকে এই দুই জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে।




আমাদের বান্দরবান প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বান্দরবানে বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সাংগু ও মাতামুহুরীসহ নদীগুলোতে পানি নামতে শুরু করেছে। এতে বান্দরবান শহরের আর্মি পাড়া, হাফেজ ঘোনা, শেরেবাংলা নগরসহ নদীর তীরবর্তী নিম্ন এলাকার পানিও নেমেছে।
এদিকে এক মাসের মধ্যে দুবার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে এসব এলাকার বানবাসী মানুষ। এ বিষয়ে আর্মি পাড়ার শামিম জানান, ১ মাসের মধ্যে ২ বার আমাদের ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। আগে কখনও এভাবে পানি উঠতো না এখানে। এখন একটু বৃষ্টি পড়লেই পানি উঠে যায়।
হাফেজ ঘোনার মনোয়ারা বেগম বলেন, পরপর দুবার বাড়িতে পানি উঠেছে। আমরা দুবার আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়েছি। আশ্রয় কেন্দ্রের পরিবেশ দেখলে আরও বেশি ভয় লাগে। সেখানে যারা থাকে তারা কেউ সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসে না। কোনও না কোনও রোগ নিয়েই সকলে বাড়ি ফিরে আসে।
পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুল ইসলাম শামু বলেন, ‘এখানে নদীর সঙ্গে যে একটি খাল আছে, তার অধিকাংশ মানুষের দখলে চলে গেছে। তাছাড়া সুইচ গেইটটিও নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। আমরা ইতিমধ্যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। যতটুকু সম্ভব দখল হয়ে যাওয়া খালটি উদ্ধার করে তার চারপাশে ওয়াল দিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।’

juri-hakaluki-picএদিকে আমাদের মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মৌলভীবাজারে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরও উন্নতি হয়েছে। বুধবার থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় কুশিয়ারার পানি কমতে শুরু করেছে। এ কারণে হাকালুকি হাওর পারে পানি কমতে শুরু করেছে। আরও ৩/৪ দিনে হাকালুকি হাওর পারে বন্যার পানি কমে যাবে। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ইন্দ্র বিজয় শংকর চক্রবর্তী এ তথ্য জানিয়েছেন।
তবে বন্যায় মৌলভীবাজারের পাঁচটি উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষ এখনও পানিবন্দি রয়েছেন। কুশিয়ারা নদী, হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওরে পানি বৃদ্ধির কারণে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর ও সদর উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়নে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটে পানি থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর আয়তনের হাকালুকি হাওরকে ঘিরে আছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা।
বড়লেখার ইউএনও এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, উপজেলায় আরও একটি আশ্রয়কেন্দ্র বেড়েছে। এ নিয়ে ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ২৬৯টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৩৩টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৩০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫১৯টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া ২৭৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যাকবলিত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ আছে। বন্যায় আউশ ও রোপা আমনের ৯৫৫ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিডি) মো.শাহাজাহান বৃ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুই দফা বন্যায় জেলার আউশ ও রোপা আমনের মোট ২ হাজার ৫৫৬ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
/এআর/