বনানীর ধর্ষণ মামলার আসামি বাহাউদ্দিন ইভানকে নারায়ণগঞ্জে তার খালুর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে তরুণীকে বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে জেলার মাসদাইর বাজার এলাকার পুরাতন ২৬০/২ (নতুন ১৩৯/২) পূর্ব দেওভোগ শেরেবাংলা নগরের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে র্যাব-১১। বাড়ির মালিক এরশাদ উল্লাহ সম্পর্কে ইভানের খালু বলে নিশ্চিত করেছেন ওই এলাকার এক বাসিন্দা।
র্যাব-১১ কমান্ডার লে. কর্নেল কামরুল হাসান বলেন, ‘বাহাউদ্দিন ইভান নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করছে এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) বিকালে নগরীর মাসদাইর এলকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে সন্ধ্যায় র্যাব তাকে গ্রেফতার করে।’
কামরুল হাসান জানান জানান, ইভানকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।
গ্রেফতারের সময় উপস্থিত পূর্ব দেওভোগ শেরেবাংলা রোড এলাকার বাসিন্দা ইরফান সরদার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকালে আমিসহ কয়েকজন মিলে পাশের একটি দোকানের সামনে বসে দাবা খেলছিলাম। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে র্যাব-১১ লেখা তিন-চারটি গাড়ি এসে সামনে খোলা জায়গায় থামে। গাড়ি থেকে নেমে র্যাব সদস্যরা দ্রুত এরশাদ উল্লাহর বাড়িতে ঢুকে যান। পরে আমাকে দুই জন র্যাব সদস্য ডেকে ওই বাড়ির ভেতরে নেন। সেখানে গিয়ে দেখি রাজধানীর বনানীতে এক তরুণী ধর্ষণ মামলার আসামি ইভানকে বাড়িটি থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এ সময় এরশাদ উল্লাহকে জিজ্ঞাসা করা হয় ইভানের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী? তখন তিনি জানান, ইভান তার ভায়রার ছেলে। পরে র্যাব ওই আসামিকে ধরে নিয়ে যায়। র্যাব সদস্যরা আমাকে সাক্ষী করার কথা জানান।’
ইরফান সরদার আরও জানান, ওই বাড়ির মালিক এরশাদ উল্লাহ, তার স্ত্রী ও ছেলে সাজেলকেও র্যাব সদস্যরা গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছে। ইভানকে র্যাবের একটি গাড়িতে তোলা হয়। একইসঙ্গে এরশাদ উল্লাহসহ তার পরিবারের অন্য সদস্যদের আরেকটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা তিনি জানেন না।
এদিকে, রাত সাড়ে ৯টায় ১৩৯/২ এরশাদ উল্লাহর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বাড়ি মানুষশূন্য। এরশাদ উল্লাহর ঘরে দরজায় তালা ঝুলছে। ওই বাড়িতে আরও তিনটি রুমে তিনটি পরিবার ভাড়া থাকে। তাদের দরজাতেও তালা ঝুলতে দেখা গেছে। এছাড়া ওই বাড়িতে ঢোকার সময় এরশাদ উল্লাহ কারখানা রয়েছে। সে কারখানার গেটেও তালা ঝুলতে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এর পাশের বাড়ির এক নারী জানান, ‘র্যাব বাড়ি থেকে ধর্ষণ মামলার আসামি ইভানকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার পরপরই ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া ও কারখানার শ্রমিকরা দরজায় তালা দিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।’
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন জানান, ‘শুনেছি র্যাব-১১ এর একটি দল মাসদাইর এলাকার একটি বাড়ি থেকে বনানীতে তরুণী ধর্ষণ মামলার আসামিকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে। তবে র্যাব আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।’
উল্লেখ্য, বনানীতে ধর্ষণের শিকার এক তরুণী বুধবার ওই থানায় শিল্পপতিপুত্র বাহাউদ্দিন ইভানের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় বলা হয়, বনানীর ২ নম্বর সড়কের ন্যাম-ভিলেজে জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে মঙ্গলবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাতে তাকে ধর্ষণ করে বাহাউদ্দিন ইভান। এরপর বুধবার (৫ জুন) দিবাগত মধ্যরাতের পর পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থল বনানী থানাধীন ২ নম্বর রোডের ৫/এ নম্বর ‘ন্যাম-ভিলেজ’ নামে বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায়। তবে ইভান তখন থেকেই পলাতক ছিল।
/এনআই/এসএমএ/টিএন/
আরও পড়ুন:
বনানীর ধর্ষণ মামলায় ইভান গ্রেফতার
‘আর জে ইভান’ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র?