শুক্রবার (৭ জুলাই) দুপুরে নাটোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সুমাইয়া, জান্নাতুল ফেরদৌসী ও নিলুফা নামের তিন ভুক্তভোগী বিদ্যালয়টিতে তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপ কামনা করেন।
নাজিরপুর এলাকার বদর উদ্দিন মোল্লার দাবি, স্থানীয় ফিরোজ আহম্মেদ ২০১০ সালে দক্ষিণপাড়ায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেন। জমিদাতাদের মেয়েদের সেই স্কুলে চাকরি দেওয়া হবে জানিয়ে তাদের তিন ভাইয়ের কাছ থেকে দুই দফায় মোট ৩৭ শতক জমি রেজিষ্ট্রি করে নেওয়া হয়। এর যার মূল্য প্রায় ৩৭ লাখ টাকা। তার ভাই কুদ্দুস মোল্লার মেয়েদের চাকুরি হলেও তার মেয়ে সুমাইয়া এবং অন্য ভাই কোবাদ আলী মোল্লার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসী ও নিলুফা ইয়াসমিনকে স্কুলটিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
জমি নেওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ম্যানেজিং কমিটির ব্যাপার। তাছাড়া স্কুল প্রতিষ্ঠার সময় প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন না বলেও জানান তিনি।
স্কুলটির উদ্যোক্তা ফিরোজ আহম্মেদ জানান, প্রতিষ্ঠার পরেই কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতের মিল না হওয়ায় তিনি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। এসবে তার কোনও ভূমিকা নেই।
প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সভাপতি মোবারক হোসেন বলেন, ‘তার কমিটির মেয়াদের মধ্যে কুদ্দুস মোল্লার জমি নিয়ে তার কন্যাদের চাকুরি দেওয়া হয়েছে। তার মেয়াদে বদর বা কোবাদের কাছ থেকে জমি নেওয়া হয়নি। বিধায় তিনি এ জন্য দায়ী নন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ২০১২ সালের মে মাসের পর কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের কোনও ক্ষমতা রাখা হয়নি। তাই কোনও কমিটির পক্ষেই তাদেরকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।’
এ ব্যাপারে গুরুদাসপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, যে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাকালে স্কুল ম্যানেজিং কমিটিই নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে সরকারের কিছুই করার থাকে না।’
বদর উদ্দিন ও কোবাদ আলী মোল্লা দাবী করেন, মেয়েদের চাকুরি হবে বিধায় বড় আশা করে তারা তাদের জমি স্কুলের নামে লিখে দিয়েছেন। অথচ তাদের মেয়েদের চাকুরি না দিয়ে তাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। হয় তাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া হোক অথবা প্রতিশ্রতি অনুযায়ী তাদের মেয়েদের চাকুরিতে বহাল করা হোক।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছের এই দুই ভূক্তভোগীর পিতা।
/এএইচ/এসএমএ/