সারিয়াকান্দির ৯ ইউনিয়নে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি

পানিতে ডুবে যাওয়া নলকূপ (ছবি- বগুড়া প্রতিনিধি)

যমুনা নদীর স্রোত বিপদসীমা অতিক্রম করায় বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ৯টিতেই পানি ঢুকেছে। এতে প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সারওয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

সারওয়ার বলেন, ‘সদরসহ কাজলা, কর্ণিবাড়ি, কুতুবপুর, হাটশেরপুর, চালুয়াবড়ি, বোহাইল, কামালপুর ও চন্দনবাইশা গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এ অঞ্চলের ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৩টিতে বন্যার পানি ঢুকেছে। এর মধ্যে ৪৩টি বিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্থগিত ও ৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।’ এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মোট ৬১টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বলে জানান তিনি।

রবিবার (৯ জুলাই) সকালে যমুনার পানি বিপদসীমার ২৫ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী হারুনার রশিদ। তিনি বলেন, ‘টিউবয়েল ডুবে যাওয়ায় খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে সেখানে।’

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, বন্যায় উপজেলার সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমির পাট, আউশ ধান, বীজতলা ও শাকসবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। তবে দুর্গত এলাকায় ১৮টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা আতিকুর রহমান।

বন্যার পানিতে তলিয়ে যেতে থাকা আমনক্ষেত (ছবি- বগুড়া প্রতিনিধি)

ইতোমধ্যে বন্যা কবলিত এক হাজার পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। কাজলার কুরিপাড়া চরে বন্যার্তদের ১৪৪ পরিবারের মধ্যে পাঁচ হাজার টাকা করে বিতরণ করেছে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি।

অন্যদিকে, বন্যার কারণে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের বয়রাকান্দি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে পাউবো-বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমীন বলেন, ‘বয়রাকান্দি পয়েন্টে নদীর তীর জেগে উঠলেই জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু করা হবে।’

বন্যা নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন প্রস্তুত আছে। ইতোমধ্যে ত্রাণ বিতরণসহ সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

অন্যদিকে, রবিবার (৯ জুলাই) ধুনট উপজেলায় বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হয়। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শিমুলবাড়ী, শহড়াবাড়ী, কৈয়াগাড়ী, রাঁধানগর ও বৈশাখী গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

সোনাতলার উপজেলার বন্যা সম্পর্কে পাউবো'র উপ-সহকারী প্রকৌশলী হারুনার রশিদ বলেন, ‘পাকুল্লা ও তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বাঁধ সংলগ্ন কয়েকটি গ্রামেও পানি ঢুকেছে।’

দুর্ভোগ মোকাবেলায় ইতোমধ্যে জেলার সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলায় ৭০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে বগুড়া জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে।

/এএইচ/এমএ/