‘১৭ ঈদেও তারা আন্দোলনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করতে পারেনি’

ছাত্রলীগের সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ওবায়দুল কাদেররোজা এলেই ঈদের পর আন্দোলনের কথা বললেও গত ১৭ ঈদেও একটি রাজনৈতিক দল আন্দোলনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, ‘একটি দল গত আট বছরে আটবারও রাস্তায় নামতে পারেনি। এখন আষাঢ় মাস। তাদের আন্দোলনের ডাক আষাঢ়ে তর্জন-গর্জনেই সীমাবদ্ধ। এ কারণেই তাদের কেবল কান্নাকাটি।’
সোমবার (১০ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ যশোর জেলার ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম রিয়াদের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। পরে সম্মেলন উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ।
সম্মেলনে বিএনপির নেতাকর্মীদের আন্দোলনে ব্যর্থতা আর হতাশার কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার দলের নেতাকর্মীদের জন্যে এখন শুধুই কান্নাকাটি করেন। কর্মীদের দুঃখ তার সহ্য হয় না। তিনি বলেন, চোরাগোপ্তা হামলা হয়েছে তার ওপর। কিন্তু তিনি আহত হননি।’
যশোর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের উদ্বোধন২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের শত শত নেতাকর্মীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে, তাদের হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা প্রয়াত আব্দুস সামাদ আজাদ, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম ও আমাকেসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমাদের কত নেতাকর্মী গুম-খুন হয়েছে, তা ভুলে গেছেন? আমাদের চোখে আর জল নেই। সন্তানহারা মা, স্বামীহারা বিধবা স্ত্রী, ভাইহারা বোনের আহাজারিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে গিয়েছিল।’
বিএনপির মহাসচিবের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মির্জা সাহেব, আপনি কাঁদছেন। ২০০১ সালের শাসনামলের কান্নার সঙ্গে আপনার আজকের কান্না মিলিয়ে দেখুন। আপনি যে কান্না করছেন, সেটি মায়াকান্না।’
অবিলম্বে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করার তাগিদ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগামি জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সদস্য সংগ্রহ করুন। আমাদের প্রথম টার্গেট তরুণ সদস্য, এরপর নারী সদস্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘর ভাঙার জন্যে যারা রাজনীতি করবে, অসুস্থ ধারার সঙ্গে যারা থাকবে, আগামী নির্বাচনে তাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না। দলে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদকাসক্ত ও আদর্শ-চেতনার বিরোধীদের স্থান নেই। তাদের দলের সদস্য করবেন না।’
সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারী (২) ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সাইফুজ্জামান শিখর, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হুসাইন প্রমুখ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, আলহাজ শেখ আফিলউদ্দিনসহ জেলা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

আরও পড়ুন-

জনগণ আর খালেদা জিয়ার দুঃশাসনে ফিরে যাবে না: ওবায়দুল কাদের

বাস ভাঙচুরের ছবি তোলায় সাংবাদিককে ছাত্রলীগ নেতাদের মারধরের অভিযোগ

/টিআর/