কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলার ও তিস্তার পানি বেড়ে যাওয়ায় তিন উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও দ্বীপচর প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। কয়েকদিন ধরে এ অবস্থা চলার পর সোমবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এর আগে সোমবার দুপুর ১২টায় ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী পয়েন্টে ২৪ দশমিক শূন্য ৮ সেন্টিমিটার। সন্ধ্যা ছয়টায় ২৪ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার। এই পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি ১০ সেন্টি মিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
ব্রহ্মপুত্রের নুনখাওয়া পয়েন্টে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছিল ২৬ দশমিক ৫৯ সেন্টিমিটার, সন্ধ্যা ছয়টায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৬৩ সেন্টিমিটার। ধরলার ফেরিঘাট পয়েন্টে দুপুর ১২টায় ছিল ২৬ দশমিক ২৮ সেন্টিমিটার সন্ধ্যা ছয়টায় বেড়ে ২৬ দশমিক ৪১ সেন্টিমিটার। তিস্তার কাওনিয়া পয়েন্টে দুপুর ১২টায় ছিল ২৮ দশমিক ৮৭ সেন্টিমিটার, সন্ধ্যা ছয়টায় বেড়ে হয়েছে ২৮ দশমিক ৯৭ সেন্টিমিটার। এসব পয়েন্টে পানি বাড়লেও এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সোমবার ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বেড়ে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকার চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট, অষ্টমীর চর, রমনা, রানীগঞ্জ, চিলমারী ইউনিয়ন, উলিপুর উপজেলার হাতিয়া, বেগমগঞ্জ, রৌমারী উপজেলার শৌলমারী, দাতভাঙ্গা, বন্দবের ইউনিয়ন ও সদর উপজেলার যাত্রাপুরসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলসহ চরাঞ্চলের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ গত পাঁচ দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় জীবন-যাপন করছেন। এসব এলাকায় শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদি পশুর খাদ্য সংকটে পড়েছেন বন্যাকবলিতরা। বানভাসীদের হাতে কাজ না থাকায় খাদ্য সংকটে দেখা দিলেও এখনও সরকারি বা বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা শুরু হয়নি।
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার বলেন, আমার ইউনিয়নের দুই তৃতীয়াংশ এলাকা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বাড়তে থাকলে আজ রাত কিংবা কালকের মধ্যে পুরো ইউনিকয়ন পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যাবে।
ত্রাণ তৎপরতা সম্পর্কে এই জনপ্রতিনিধি আরও বলেন, ‘এখনেও ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়নি। তবে আজ থেকে শুরু হতে পারে।’
অষ্টমীরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু তালেব ট্রিবিউনকে জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় দেড় হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় জীবন-যাপন করছেন। কিন্তু এখনও কোনও ত্রাণ সহায়তা শুরু করা সম্ভব হয়নি। বন্যা কবলিত এলাকাগুলোর কাঁচা সড়ক তলিয়ে থাকায় নৌকায় করে প্রয়োজনীয় কাজ করতে হচ্ছে এলাকার লোকজনকে।
উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের চর অনন্তপুর গ্রামের ইসলাম মিয়া, আজাহার আলীসহ কয়েকজন জানান, ঘরের ভেতর থেকে পানি, কেউ চৌকি আবার কেউ বাঁশের মাচার ওপর পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। ঘরে খাবারও নেই। মেম্বার, চেয়ারম্যানও কোনও সাহায্য দিচ্ছে না।
চিলমারী উপজেলার নয়ারচর ইউনিয়নের রাবেয়া বেগম বলেন, ‘হামরা ছোট ছৈল আর গরু, ছাগল নিয়া বিপদে আছি। ঘর-বড়িত পানি, ঠিকমতো রান্নাও করবার পারি না।’
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চল গুলোতে পানি প্রবেশ করার কারণে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও তা ভয়াবহ পর্যায়ের নয়। তারপরও আমরা এলাকাভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী ত্রাণ তৎপরতা শুরু করেছি। কোথাও কোনও সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি রেখেছি।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সোমবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী তিনদিন পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের সককটি পয়েন্টে পানি বাড়তে পরে বলেও জানান তিনি।
/এসএমএ/ আপডেট-সন্ধ্যায়