প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের সঙ্গে মিলনায়তনের ভেতরে প্রবেশ ও নেতাদের সঙ্গে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউছার আশা ও জেলা ছাত্রদলের কর্মী রফিকুল ইসলামের প্রথমে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে তাদের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কিছু চেয়ার টেবিল ভাংচুর করা হয়। পরে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। অনুষ্ঠান শেষে কেন্দ্রীয় নেতারা বের হয়ে গেলে মিলনায়তনের বাইরে আবারও লাঠিসোঁটা নিয়ে ছাত্রদলের দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ এক পর্যায়ে নগরীর প্রধান সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে ছাত্রদলের অন্তত ১০ কর্মী আহত হয়েছেন।
আবুল কাউছার আশা নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ছেলে। রফিকুল ইসলাম কেন্দ্রীয় বিএনপির সহআন্তর্জাতিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। সংঘর্ষের বিষয়ে আবুল কাউছার আশা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কারও বিরোধ হয়নি। তবে কয়েকদিন ধরে এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের হুমকিধামকি দিয়ে আসছিলেন বিএনপির কয়েক নেতা। তাই ছাত্রদলের ছেলেপেলেরা আজকে যারা বিশৃঙ্খলা করেছে, তাদের শক্ত হতে প্রতিরোধ করেছে।’
অন্যদিকে রফিকুল বলেন, ‘আমি জেলা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশের সময় আশা আমাকে পেছনে থেকে টেনে ধরেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে আশাসহ তার লোকজন আমরা ওপর হামলা চালায়।’ এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে ছাত্রদলের দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে থানায় এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দেয়নি।’
ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মিলনায়তনে প্রবেশ, ছবি তোলা এবং নেতাদের পক্ষে স্লোগান দেওয়ার প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে মিলনায়তনের বাইরে বহিরাগত নেতা-কর্মীদের ধাক্কাধাক্কি ও সংষর্ঘ হয়েছে। তবে অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ শেষ হয়েছে। মিলনায়তনের ভেতরে কোনও কিছু হয়নি।’ এ বিষয়ে জানতে ছাত্রদল নেতা ও কর্মী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।
/এএম