বন্যা নয়, প্যানিক সৃষ্টি করছে মিডিয়া : সিরাজগঞ্জের ডিসি

 

মতবিনিময় সভায় সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা সিরাজগঞ্জে বন্যা নেই দাবি করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) কামরুন নাহার সিদ্দীকা বলেছেন, ‘সিরাজগঞ্জ জেলায় বন্যা নেই, আছে যমুনার নিম্নাঞ্চলের প্লাবন। উজানের পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যমুনার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় বাঁধের আশেপাশে বিশেষ করে নদীর দিকে, এমনকি চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এটি সত্যিকারের বন্যা নয়, এটিকে প্লাবন বলা যেতে পারে।’ গণমাধ্যমকে দোষারোপ করে তিনি বলেন, ‘দু’একটি মিডিয়ায় বন্যা বলে ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। বাঁধের পাশে নদী সংলগ্ন এলাকায় এমনিতেই সামান্য পানি বাড়লে সেখানকার ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। সেখানকার দৃশ্য দু’একটি টেলিভিশন চ্যানেলে লাইভ টেলিকাস্ট দেখিয়ে প্যানিক (আতঙ্ক) সৃষ্টি করে প্রশাসনকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা হচ্ছে।’

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে বুধবার (১২ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা এ মন্তব্য করেন। এসময় তার সঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম ছিলেন। ডিসির ওই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে প্রশ্ন করা হয়-এখন থেকে মিডিয়াকর্মীরা এটিকে কী বলবেন-বন্যা, নাকি প্লাবন। জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আপনারাই ভালো জানেন, কোনটি বললে বা লিখলে ভালো হয়।’

কাজিপুর উপজেলার মাইজবাড়ি ইউনিয়নের ঢেকুরিয়া হাটের এই ছবি বুধবার তোলাসিরাজগঞ্জ জেলার চলমান দুর্যোগকে ডিসি ‘বন্যা’ বলতে নারাজ হলেও মতবিনিময় সভার সময় তার পেছনে ডিসপ্লে বোর্ডের ওপরে ‘২০১৭ সালের বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি ও ত্রাণ তৎপরতার প্রতিবেদন’ কথাটি উল্লেখ ছিল। ওই বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, উজানের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি বুধবার বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার উপরে রয়েছে। পানি বাড়ায় জেলা সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার নদী তীরবর্তী নতুন নতুন এলাকা ও পার্শ্ববর্তী নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। জেলার পাঁচ উপজেলার ৩০টি ইউনিয়নের ১৯৪টি গ্রামের ১৪ হাজার ৮১৬টি পরিবারের প্রায় ৬১ হাজার ১৮৬ জন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রতিদিনই ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা বাড়ছে। এসব উপজেলার ১ হাজার ২১০টি বাড়িঘর বন্যায় সম্পূর্ণ এবং ৪ হাজার ২৩৭টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে সদর উপজেলার মেছরা এলাকাসদর উপজেলার মেছরা ও কাওয়াখোলাসহ যমুনার চরের অনেকস্থানে বন্যার্তরা যথাযথভাবে ত্রাণ পাচ্ছেন না বলে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করছেন- এমন তথ্যের প্রেক্ষাপটে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘অনেকে ত্রাণ পেয়েও পাননি বলে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বলে থাকেন। এমনকি, চাল পাওয়ার পর বাড়িতে গিয়ে পরিমাপ না করেই বলেন, কম দেওয়া হয়েছে। বন্যার সময় ত্রাণ সুষ্ঠুভাবে দেওয়ার জন্য ভলেন্টিয়ার পাওয়া যায় না। তারপরও আপনারা (মিডিয়াকর্মী) নিজেরাই চরাঞ্চলের প্লাবিতদের ত্রাণ দেবেন, তাহলে নৌকাসহ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জেলা প্রশাসন থেকে করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।’

/এএম