সৈয়দ হাসান ইমাম আর জানান, ‘যমুনা নদীর পানি এখনও বিপদ সীমার ৭৩ সে.মি. ওপরে থাকায় যমুনা পাড়ের সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে পাউবোর নদী তীর রক্ষা বাঁধের কিছু কিছু স্থানে ঝুঁকি রয়েছে ।’
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বৃহস্পতিবার সকালে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসের হিসাব অনুযায়ী জেলার সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুরের ৩১ টি ইউনিয়নের ২২৪ টি গ্রামের ৪০ হাজার ৬৪০ টি পরিবারের প্রায় ৭৪ হাজার ৮৬ জন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রতিদিনই ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা বাড়ছে। এসব উপজেলার ১২৫০ টি বাড়িঘর বন্যায় সম্পূর্ণ এবং ৭ হাজার ৫ শ’ ৪২ টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বন্যার্তদের মাঝে ১১৮ মে.টন চাল এবং ৩ লাখ ৩৫ হাজার নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।’
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ‘যমুনার পশ্চিম পাড়ে কাজিপুর সদরের মাছুয়াকান্দি এলাকায় পাউবোর ৩ নম্বর ক্রসবার বাঁধের ভাঙন ও ধসে বিলীন হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত ৯ জনকে এক বান্ডিল করে ঢেউটিন, নগদ ৩ হাজার টাকা এবং ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (ডিডি) আরশেদ আলী বলেন, ‘চলমান বন্যায় জেলার ওই ৫টি উপজেলার ৭ হাজার ৫শ’ ১৭ হেক্টর এলাকায় ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। ফসলের ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ণয় করা যায়নি। বন্যায় ফসলের বাস্তব অবস্থা দেখতে আমি নিজেই আজ (বৃহস্পতিবার) চৌহালী উপজেলায় এসেছি।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দীক মো. ইউসুফ রেজা বলেন, ‘জেলার ৪টি উপজেলায় প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। তারপরও নিজস্ব উদ্যোগে উঁচু রাস্তাঘাট ও বাঁধের ওপর অস্থায়ীভাবে পাঠদান চালু রাখার জন্য ওই সমস্ত এলাকার শিক্ষকদের বলা হয়েছে।’
/এনআই/