উজানের ভারি বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি কমতে শুরু করায় নীলফামারীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে আসছেন বন্যাদুর্গতরা । তবে বন্যার পানি কমলেও পরিবারগুলোর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি গো খাদ্যেরও তীব্র সংকট চলছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা না থাকায় পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ।
সোমবার (১০ জুলাই) তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বুধবার (১২ জুলাই) তা ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের বন্যাপূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ সূত্র জানায়, উজানের ঢল ও ভারি বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে গিয়ে সোমবার সকাল ৯টায় বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বিকাল তিনটার দিকে পাঁচ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল।
বুধবার (১২ জুলাই) সকাল থেকে তিস্তায় পানির উচ্চতা কমতে শুরু করে। এদিন দুপুর ১২ টায় বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের পানি পরিমাপক উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রশিদ।
গত দুদিনে নীলফামারীর দু’টি উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রামের ১০ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছিল।
ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ছোটখাতা গ্রামের নজরুল ইসলাম ইসলাম (৪৫) বলেন, ‘নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ছোটখাতা গ্রামের ছয় শতাধিক বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছিল। পানিবন্দি এসব পরিবার চুলা জ্বালাতে না পেরে শুকনা খাবার খেয়ে দিন কাটায়। গ্রামের অনেক পরিবার বাড়ি ছেড়ে বেড়িবাঁধে গিয়ে আশ্রয় নেন।
একই গ্রামের মোহসেনা বেগম (৩৭) বলেন,‘নদীর পানি বাড়ায় গত রবিবার রাতে রান্না করা সম্ভব হয়নি। সোমবার দিনভর তিন সন্তানকে নিয়ে শুকনা খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। তবে তিনদিনের মাথায় বুধবার অনেকেই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘বন্যায় বাড়ি ঘরের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেক ধকল যাবে। এ দিকে বন্যার পানি কমতে থাকায় চর ও চরগ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে।’
ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ‘বন্যার পানি বিপদসীমার নিচে আসায় বাঁধে আশ্রিত মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে।’
পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, ‘রবিবার রাতে নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। পানি ওঠানামার ফলে ইউনিয়নের ঝাড়শিংহেশ্বর, পূর্বছাতনাই গ্রামের এক হাজার পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। ’
তিনি বলেন, ‘পরিবারগুলোর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি গো খাদ্যের তীব্র সংকট চলছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা না থাকায় পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এসব এলাকার মানুষজন।
বন্যাদুর্গতদের অভিযোগ, তিস্তাপাড়ের ইউনিয়নগুলোতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বন্যাকবলিত মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন,‘বুধবার দুপুর ২টায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ’
এদিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি ধীর ধীরে কমতে শুরু করেছে। পানিবন্দি প্রায় ৪০ ভাগ মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ’
/এপিএইচ/