সাংবাদিক শিমুল হত্যার পলাতক আসামিদের মালামাল ক্রোক



সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুরে সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের মালামাল ক্রোক করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম কিবরিয়া ও পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে মঙ্গলবার (১১ জুলাই) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চার আসামির বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি পৌর এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান পীযুষ, রামবাড়ির সোহেল আকন্দ, চুনিয়াখালিপাড়ার আবু হানিফ এবং আন্দারকোটা মহল্লার আপনের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। আসামিদের না পেয়ে তাদের স্বজনদের উপস্থিতিতে আসামিদের টিভি, ফ্রিজ, খাট, আলনা, ওয়ারড্রব ও ড্রেসিং টেবিলসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ক্রোক করে থানায় আনা হয়। 

সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের মালামাল ক্রোক অভিযানে পুলিশ। ছবি-প্রতিনিধিতিনি আরো জানান, আদালতের নির্দেশে এ অভিযান শুরু হয়েছে। চার জনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। একইভাবে অন্য আরো ২০ জনের বাড়িতে অভিযান চালানো হবে।
সোমবার (১০ জুলাই) শিমুল হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মালামাল ক্রোকের আদেশ দেন শাহজাদপুর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হক। আগামী ২২ আগস্টের মধ্যে এ আদেশ কার্যকর করতে পুলিশের প্রতি আদালতের নির্দেশ রয়েছে বলে জানান পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিবুল ইসলাম।
সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের মালামাল ক্রোক অভিযানে পুলিশ। ছবি-প্রতিনিধিমামলার নথি অনুসারে, ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে শাহজাদপুরের তৎকালীন মেয়র (বর্তমানে সাময়িক বহিস্কৃত) হালিমুল হক মিরুর ভাইদের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা বিজয়সহ আওয়ামী লীগের অপর পক্ষের মারামারির খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে মেয়র মিরুর ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হন সাংবাদিক শিমুল। পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় ৩ ফেব্রুয়ারি মিরু ও মিন্টুসহ জ্ঞাত ১৮ ও অজ্ঞাত আরো ২০-২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন শিমুলের স্ত্রী। তিন মাস তদন্তের পর গত ২ মে ৩৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। মামলাটি গত ১৩ জুন আমলে নেয় আদালত।
এএইচ/