এদিকে, স্রোত ও পানির প্রবল চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ফুলছড়ি উপজেলার সিংড়া-রতনপুর, কাতলামারী, রতনপুর, কঞ্চিবাড়ির কাইয়াহাট এলাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (১৪ জুলাই) দুপুর ও রাতে দু’বার সিংড়া-রতনপুর বাঁধে গর্ত হয়ে পানি বের হতে থাকে। ফলে বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালু ও মাটির বস্তা ফেলে গর্ত মেরামত করে।
পানিতে তলিয়ে থাকা এলাকাগুলোর মানুষদের মধ্যে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গো-খাদ্যর সংকট থাকায় গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়েও চরম বিপাকে পড়েছেন বানভাসী মানুষ। সেইসঙ্গে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশুসহ নারী-পুরুষরা। এসব এলাকায় ক্ষুদ্র পরিসরে দুয়েকটি মেডিক্যাল টিম কাজ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় এর পরিমাণ অত্যন্ত কম।
ফুলছড়ির গুণভরি গ্রামের রহিমা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১০ দিন পানিবন্দি। ঘরের খাবার, হাতের টাকা শেষ। দু’দিন হয় খেয়ে না খেয়ে আছি। কিন্তু ত্রাণ তো দূরের কথা, চেয়ারম্যান-মেম্বারও খোঁজ নেয়নি।’
এর মধ্যে গত চার দিনে সাপের কামড়ে এক বৃদ্ধ এবং পানিতে ডুবে দুই শিশু ও এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, পানির তোড়ে সদর উপজেলার কামারজানির গো-ঘাট এলাকায় নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া ভাঙনে শতাধিক বসতবাড়ি, জমি, গাছপালাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে আরও দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি, জমিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। গত একমাস ধরে ভাঙনের পর নতুন ভাঙন অব্যাহত থাকলে গো-ঘাট গ্রামটি একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীরা।
গাইবান্ধা দুর্যোগ ও ত্রাণ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৯৪টি গ্রামের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৫৪ হাজার ৩৮টি। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার ১৩ জন। এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ১৯৫ মেট্রিক টন চাল, সাড়ে ১৩ লাখ টাকা ও এক হাজার শুকনা খাবার প্যাকেট দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার (১৫ জুলাই) আরও এক মেট্রিক টন চাল ও নগদ টাকা বিতরণ করার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন-
জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাবে বদলাচ্ছে বৃষ্টিপাতের ধরন
‘আল্লাহ আমাগোরই খালি বিপদ দেয়, তাগোর তো কিছু অয় না’
/টিআর/