সুন্দরবনে বাঘের সঠিক সংখ্যা জানা যাবে ২০১৯ সালে

রয়েল বেঙ্গল টাইগারবৃহৎ ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্চ এলাকায় ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ সার্ভের মাঠ পর্যায়ের কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এখন আট শতাধিক ক্যামেরায় তোলা ছবি পর্যালোচনা করে বাঘের ঘনত্ব নিরুপণের চেষ্টা চলছে। বাঘ মনিটরিং সার্ভে প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ বনবিভাগ ও ওয়াইল্ড টিম যৌথভাবে এ সার্ভে পরিচালনা করছে। এই সার্ভে শেষ করে ২০১৯ সালে বাঘের সঠিক সংখ্যা নিরুপণ করা যাবে।
সুন্দরবনের খুলনা, শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় মাঠ পর্যায়ের সার্ভে কাজ সম্পন্ন করে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা জানতে প্রায় দু’বছর সময় লাগবে। এর মাধ্যমে সুন্দরবনে বাঘের কমা-বাড়া, চলাচলের ঘনত্ব ও জীবনাচরণের তথ্য পাওয়া যাবে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগীয় সাবেক কর্মকর্তা মো. সাইদ আলী জানান, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকার ৪০২টি স্টেশনে ৮০৪টি ক্যামেরা স্থাপন করে বাঘের ছবি তোলা হয়েছে। প্রতিটি ক্যামেরায় পাঁচ থেকে ১০ সেকেন্ড পর পর একটি করে ছবি তোলা হয়। ছবির ডোরাকাটা পর্যালোচনা করে বাঘের সংখ্যা নিরুপণ করা হবে। আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকার বাঘের প্রকৃত সংখ্যার প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে ক্যামেরা ট্রাপিং পদ্ধতিতে বাঘ গণনার কাজ চলতি বছরের মার্চ মাসে শেষ হয়। গত বছরের ১ ডিসেম্বর এ পদ্ধতিতে সুন্দরবনে বাঘ পরীবিক্ষণ (গণনা) শুরু হয়।

বাঘ মনিটরিং সার্ভে প্রকল্পের পরিচালক আমির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ক্যামেরা ট্রাপিং পদ্ধতিতে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে ছবি তোলার কাজ শেষ হয়েছে। এখন তা ল্যাবে সফটওয়ারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এ্যানালাইসিস করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সাতক্ষীরা রেঞ্জে বাঘের বিচরণ ও ঘনত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। তবে প্রথম ধাপে করা সাতক্ষীরা রেঞ্চ এলাকার সার্ভে শেষে খুলনা, শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের সার্ভে করা হবে।’ সুন্দরবনে সার্ভে শেষ করে বাঘের প্রকৃত সংখ্যা জানতে আরও দুই বছর (২০১৯ সাল পর্যন্ত) সময় লাগতে পারে বলে জানান আমির হোসেন চৌধুরী।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় ২০১৩ সালে সুন্দরবনের ২৬ শতাংশ এলাকায় ক্যামেরা ট্রাপিং পদ্ধতিতে বাঘ শুমারি হয়েছিল। ওই সময় বাঘের উপস্থিতি বেশি এমন এলাকা বেছে নেওয়া হয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় দফায় গত বছরের ১ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা রেঞ্জের দক্ষিণ দিকে থেকে বনের ৫০ শতাংশ এলাকায় ক্যামেরা স্থাপন করে এবারের গণনা কার্যক্রম চালানো হয়। ইউএসএইডের অর্থায়নে বাঘ প্রকল্পের অধীনে ডিসেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় বাঘ গণনা করা হয়। আট সদস্যের ছয়টি টিমের ৪৫ জন সদস্য বাঘ গণনার কাজ করে। ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের পাশাপাশি খাল সার্ভের মাধ্যমেও বাঘ গণনা করা হয়েছে।

সুন্দরবন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের নভেম্বর সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্রাপিং পদ্ধতিতে প্রথম বাঘ গণনা করা হয়। সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে গাছ বা খুঁটির সঙ্গে ৯০টি ক্যামেরা বসিয়ে ওই গণনার কাজ করেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৩০ জন কর্মী। ২০১৫ সালের মার্চে শেষ হয় গণনার কাজ। ওই শুমারি অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১০৬টি। ২০১০ সালের বাঘ সম্মেলনের ঘোষণার সুপারিশ অনুযায়ী গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ইউএসএইড’র বাঘ অ্যাকটিভিটি প্রকল্পের অর্থায়নে এই সার্ভে শুরু করে বন বিভাগ।

উল্লেখ্য, বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী সুন্দরবনে ১৯৮২ সালে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৫৩টি, ২০০৪ সালে ৪৪০টি।

/এসএমএ/

আরও পড়ুন

ভারতে ‘বেড়াতে’ যাওয়া বাঘেরা কোথায়!