ষষ্ঠ দিনে ববি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন: রাতে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা

ববি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ২২ দফা দাবিতে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো চলছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। আগের পাঁচ দিনের মতো রবিবারেও (৩০ জুলাই) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, ববি উপাচার্য বরিশালে ফিরেছেন। রাতে সিন্ডিকেট সদস্য ও শিক্ষকদের সঙ্গে ব্ঠৈকের পর তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও আলোচনায় বসতে পারেন বলে তাদের জানানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এই আলোচনার পরই আন্দোলন নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত আন্দোলনে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, বুধবার (২৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ২২ দফার একটি দাবিনামা কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছেছে। কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন এবং দাবিগুলো দ্রুত মীমাংসার জন্য এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছেন।
তবে উপাচার্যকে সশরীরে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণায় আন্দোলন অব্যাহত রাখেন শিক্ষার্থীরা। রবিবারের মধ্যে তা না করলে উপাচার্য অপসারণের আন্দোলন শুরু হবে বলেও হুমকি দেন তারা। এদিকে, উপাচার্য রবিবার বরিশালে পৌঁছালেও তিনি এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসে যাননি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাতে তিনি ক্যাম্পাসে গিয়ে সিনেট সদস্য ও শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন।
টানা ষষ্ঠ দিনে চলছে ববি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনএসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এস এম ইমামুল হক মোবাইল ফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সবগুলো যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া হবে বলে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরও কেন তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে, তা বলতে পারছি না। আমাদের তো ভেতরে যাওয়ার ও বসে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। তা না তাদের কথা শুনবো কিভাবে?’
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘আমাকে প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন। আমি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বা দুর্নীতিবাজ হলে তারা তো আমাকে নিয়োগ দিতেন না।’
ববি উপাচার্য আরও বলেন, ‘যারা আন্দোলন করছে, তারা তাদের দাবির কথা আমাকে আগে বলেনি। তাই তাদের দাবিগুলো প্রথমে আমার কাছে তুলে ধরতে হবে, আমার কথাও তাদের শুনতে হবে। শান্তিপূর্ণভাবেই সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। এখন তাদের এই আন্দোলনের জন্য যে ক্লাস-পরীক্ষা সময়মতো হলো না, এর জন্য পরে তাদেরই অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হবে।’
উল্লেখ্য, গত রবিবার (২৩ জুলাই) থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। তাদের লাগাতার অবস্থান-ধর্মঘটের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতিও একাত্মতা ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা না রাখায় বরিশালের সংস্কৃতিককর্মী ও মুক্তিযোদ্ধারাও ভিসিবিরোধী আন্দোলন শুরু করেছেন। তারা বরিশাল শহরে মানববন্ধন, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।

আরও পড়ুন-

বজ্রাঘাতে ৩ জেলায় ৪ জনের মৃত্যু

সাঘাটায় সেফটি ট্যাংকে গৃহবধূর লাশ: স্বামী-সতীনসহ আটক ৪

/টিআর/