দুদকের মামলায় ফের কারাগারে কক্সবাজারের সাবেক এডিসি জাফর

কক্সবাজারের সাবেক এডিসি জাফর আলম (ছবি- ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত)

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি- রাজস্ব) মো. জাফর আলমকে ফের কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (৩১ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে হাজিরা দিতে আসলে এডিসি জাফর আলমের জামিন নামন্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিক আজিজ। কক্সবাজারে নিয়োজিত দুদকের পিপি আবদুর রহিম বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

পিপি আবদুর রহিম জানান, মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিংড়ি খাতের ক্ষতিপূরণ প্রকল্পে ভুয়া লোকজনের নাম দেখিয়ে ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় হাইকোর্ট এডিসি জাফর আলমকে জামিন দিয়েছিলেন। এর বিরুদ্ধে দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ১০ জুলাই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ এডিসি জাফর আলমের জামিন বাতিল করে নিম্ন আদালতে আত্নসমর্পণের আদেশ দেন। একই মামলায় সাবেক জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিনের জামিন বাতিল করে তাকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সোমবার উচ্চ আদালতের নির্দেশে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে এডিসি জাফরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষতিপূরণের ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাফর আলমসহ ৩৬ জনের নামে মামলা (মামলা নং- জিআর-১০৪০/২০১৪) করেন কক্সবাজারের সাবেক ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান। ৩ জুলাই কক্সবাজার জেলা জজ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা ছৈয়দ আহমেদ রাসেল।

৮ মে ঢাকার সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে স্পেশাল আদালতের এ মামলায় (মামলা নং- স্পেশাল ১২/২০১৭) এডিসি জাফরকে গ্রেফতার করে দুদক। পরে উচ্চ আদালত থেকে ৬ মাসের জামিন পান তিনি। দুদকের আপিলের কারণে ১০ জুলাই এডিসি জাফরের জামিন বাতিল করে তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের আদেশ দেন বিচারক। ৩ এপ্রিল এ মামলায় দুদক টিম কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার সাবেক উচ্চমান সহকারী আবুল কাশেম মজুমদার, অ্যাডভোকেট নুর মোহাম্মদ সিকদার ও কক্সবাজারের সাবেক সার্ভেয়ার ফখরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির বিপরীতে ভুয়া মালিকানা তৈরি করে ক্ষতিপূরণের প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কক্সবাজারের তৎকালীন জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সার্ভেয়ার কানুনগোসহ ১৩ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ২৩ জন স্থানীয় বাসিন্দাসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।

মহেশখালীর কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণ করা জমির বিপরীতে ২৩৭ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ২৫টি অস্তিত্বহীন চিংড়ি ঘের দেখিয়ে কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ শাখার উচ্চমান সহকারী আবুল কাশেম মজুমদারের নেতৃত্বে ৩৬ জনের একটি সিন্ডিকেট ৪৬ কোটি ২৪ লাখ ৩ হাজার ৩২০ টাকা ক্ষতিপূরণ নিজেদের করায়ত্তে নেয়। এর মধ্যে কৌশলে তারা ১৯ কোটি ৮২ লাখ ৮ হাজার ৩১৫ টাকা তুলেও নেয়। বাকি টাকার জন্য ইস্যু করা হয়েছিল আরও পাঁচটি চেক। তবে অভিযোগ উঠার পর পাঁচটি চেকের আওতায় নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের বাকি টাকা আটকে দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। এতে জাপানের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা জাইকা ২৮ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার কথা রয়েছে। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে ৭ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। বাকি তিন হাজার ৯৯৮ কোটি টাকা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড যোগান দেবে।

/এমএ/