মৃণাল হকের তৈরি বঙ্গবন্ধুর ‘ত্রুটিপূর্ণ’ ভাস্কর্য ভাঙলো কুবি

ভেঙে ফেলা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যকুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাসে স্থাপিত মৃণাল হকের তৈরি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘ত্রুটিপূর্ণ’ ভাস্কর্যটি ভেঙে দিয়েছে কুবি প্রশাসন। ভাস্কর্য নির্মাণে অনিয়ম, নিম্নমানের উপাদানের ব্যবহার ছাড়াও ভাস্কর্যটিতে বঙ্গবন্ধুকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ভাবে উপস্থাপনের অভিযোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে রবিবার (৩০ জুলাই) রাতে ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়। কুবি উপাচার্য অধ্যাপক বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া ‘থিম ও স্পেসিফিকেশন’ অনুযায়ী না হওয়ার কারণে নতুন করে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ত কমিটি ও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ কমিটির অনুমোদন ছাড়াই মৃণাল হককে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের দায়িত্ব দেন উপাচার্য অধ্যাপক আলী আশরাফ। এই ভাস্কর্যের জন্য মৃণাল হককে দুই অর্থবছরে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মে মাসে শুরু হয় ভাস্কর্য তৈরির কাজ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভালো মানের পাথর ও টাইলস দিয়ে নির্মাণের কথা থাকলেও লোহার পাত আর সাদা রঙ ব্যবহার করে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন মৃণাল হক।
শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মে মাসে শুরু হলেও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় জুন মাসে আবার কাজ শুরু হয়। প্রতিফুট ১২০ টাকা দামের টাইলস ও উচ্চ মানের পাথর দিয়ে ভাস্কর্যটি তৈরির কথা ছিল। কিন্তু মৃণাল হক প্রতিফুট মাত্র ৪০ টাকা দামের টাইলস ব্যবহার করেছেন মূল বেদীতে। এতে ব্যবহৃত ইটও নিম্নমানের। আবার বেদীর ওপর ১৫ ফুট উঁচু হওয়ার কথা থাকলেও এটি মাত্র ১১ ফুট উঁচু।’ ভাস্কর্যটিতে বঙ্গবন্ধুকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে সেটা ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলেও দাবি করেন তিনি।
কেবল নির্মাল উপকরণই নয়, ভাস্কর্যটি তৈরি করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। নির্মাণ কমিটির সদস্য, সাবেক প্রক্টর আইনুল হক নিজেই বলছেন, ‘সংশ্লিষ্ট কমিটিকে পাস কাটিয়ে নিয়ম-বহির্ভূত প্রক্রিয়ায় মৃণাল হককে দিয়ে যে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়েছিল, সেটি জাতির জনকের প্রতি চরম অপমান। ভাস্কর্যের দেহ খাটো, হাতের তুলনায় পা খাটো এবং চোখে চশমা নেই। এমন বিকৃত চেহারা ও নির্মাণত্রুটি দেখলে মনেই হবে না এটি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য।’
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বেদীভাস্কর্যটি নির্মাণের পর থেকেই এটি অপসারণের দাবি জানিয়ে যাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শেষ পর্যন্ত রবিবার রাতের আঁধারে ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়। ওই স্থানেই এখন পড়ে রয়েছে ভেঙে ফেলা ভাস্কর্যটি। বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ বলছে, নতুন করে নির্মাণের জন্যই ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলী আশরাফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘ভাস্কর মৃণাল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া ‘থিম ও স্পেসিফিকেশন’ অনুযায়ী কাজটি করতে পারেননি। তাই নতুন করে ভাস্কর্যটি তৈরি করতে বলা হয়েছে। তার বিলও আটকে দেওয়া হয়েছে। তাকে জানানো হয়েছে, ভাস্কর্যে জাতির জনকের ব্যক্তিত্ব যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে।’’ আর কারও চাপের মুখে নয়, কুবি কর্তৃপক্ষ স্বউদ্যোগেই ভাস্কর্য পুনঃনির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, কুবি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু তাহেরের নেতৃত্বে গঠিত বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য নির্মাণ তদারকি কমিটিতে রয়েছেন শিল্পী হাশেম খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর আইনুল হক, শিল্পী রবিউল ইসলাম ও লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক তোফায়েল হোসেন মজুমদার।

আরও পড়ুন-

এবার তুফানের ভাই মতিনও বহিষ্কার

রাজশাহীতে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের চেয়ার ভাঙচুর

নীলফামারীতে ছিটমহল বিনিময়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে আনন্দ শোভাযাত্রা

বাবা-মায়ের কবরের পাশে শায়িত হলেন সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিন

/বিএল/টিআর/