সরেজমিন নগরীর প্রধান সড়ক পায়রা চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, পুরো রাস্তা খানা-খন্দে ভরা। জাহাজ কোম্পানি শপিং মলের সামনের সড়কটিরও একই অবস্থা। একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি পর্যন্ত তলিয়ে যায়। এই সড়কটির ৫শ’ গজ দূরে সিটি মেয়র ঝন্টুর বাস ভবন। তিনি প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। গত ৩ দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টির ফলে হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে এই সড়কটিও।
রংপুর সিটি মেয়র শরফ উদ্দিন আহাম্মেদ ঝন্টু জানান, অনেক রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। যদি এক দেড় মাস সময় পাওয়া যায়— তাহলে নগরবাসী দৃশ্যমান কিছু একটা দেখতে পাবে।
নগরীর প্রধানতম সড়ক শাপলা চত্বর থেকে স্টেশন এবং জেলা খাদ্য গুদাম থেকে র্যাব-১৩ কার্যালয় পর্যন্ত সড়ক দুইটিরও বেহাল দশা। স্থানীয় মমতাজ মিয়া, আলমগীর, সালমা বেগমসহ অনেকেই জানালেন ৩/৪ বছর ধরে এই সড়কটির করুণ অবস্থার কথা। সিটি মেয়রকে বহুবার অনুরোধ জানানোর পরও কোনও কাজ হয়নি। তারা বলেন, আর কবে সংস্কার হবে? কারণ মেয়রের মেয়াদ আছে মাত্র ৬ মাস।
রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল জানান, মেয়র ঝন্টু সাহেব উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যতটুক উন্নয়ন হয়েছে রংপুরের পুত্রবধূ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতার কারণে হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন অভিযোগ করেন এ মেয়রের আমলে নগরীর কোনও উন্নয়ন হয়নি।
কামারপাড়া থেকে আবহাওয়া অফিস পর্যন্ত সড়কটির অবস্থাও খুবই খারাপ। সারা বছর এই সড়কের বিভিন্ন স্থান পানিতে তলিয়ে থাকে। একইভাবে দক্ষিণ কামার পাড়া থেকে মন্দির পর্যন্ত সড়কটি ব্যবহার অনুপোযোগী দীর্ঘদিন ধরে। একই অবস্থা নগরীর সেনপাড়া থেকে শিশুমঙ্গল স্কুল বাবুখাঁ নজরুল পাঠাগার থেকে বাখাঁ সড়ক, ঠিকাদারপাড়া বিকনের মোড়, হাবিবনগর কলেজ রোড সড়ক, শালবন থেকে হারাগাছ সড়ক, বেগম রোকেয়া কলেজ সড়কসহ নগরীর শতকরা ৭৫ ভাগ সড়কের বেহাল দশা। এছাড়াও নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়ার ব্রিজটি যেকোনও মহুর্তে ধসে ওই সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে এলাকাবাসি জানান। তারা বলেন, মেয়র কয়েকবার এসেছেন। আশ্বাসও দিয়ে গেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
/এনআই/