পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর বুধবার (০২ আগস্ট) ওই ১১ শিক্ষক বিভাগীয় সভাপতির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে চিঠি দেন। এছাড়া, উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও অনুষদের ডিনের কাছেও এর অনুলিপি দেন তারা। ওই চিঠিতে একাডেমিক সভায় সভাপতির একক সিদ্ধান্ত সদস্যদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া, বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাইরে ফাঁস করে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা,শিক্ষকদের সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রচার ও শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। চিঠিতে বিভাগের ১১ জন শিক্ষক স্বাক্ষর করেন।
জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুখসানা পারভীনের বিরুদ্ধে তার ১১ সহকর্মী বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক নাসিমা জামানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে রুখসানা পারভীন বিভিন্ন সময় শ্রেণিকক্ষে এবং এর বাইরে শিক্ষকদের নামে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৩১ জুলাই) একাডেমিক কমিটির তলবি সভা আহ্বান করা হয়।
সোমবার শিক্ষকরা সভায় আসলেও আরেকটি নোটিশের মাধ্যমে বিভাগীয় সভাপতি শিক্ষকদের জানান, উপ-উপাচার্যের মৌখিক নির্দেশের ভিত্তিতে সভা স্থগিত করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারী শিক্ষকরা জানান, তারা উপ-উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন, তিনি এ ধরনের কোনও নির্দেশ দেননি। রুখসানা পারভীনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকায় সভাপতি এ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষকরা।
অভিযোগকারী শিক্ষকদের পক্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এম আমিনুর রহমান, অধ্যাপক রুহুল আমিন, অধ্যাপক এস এম রাজী ও অধ্যাপক কফিলউদ্দিন আহমেদ জানান, শিক্ষকদের নামে যদি রুখসানা পারভীনের কোনও অভিযোগ থাকেই, তবে বিভাগের মাধ্যমে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করতে পারতেন। শ্রেণিকক্ষে বা বাইরে ‘কুরুচিপূর্ণ’ ও ‘মানহানিকর’ কথা বলে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার দরকার ছিল না। আর সভাপতি নিজেও মিথ্যা কথা বলে সভা বাতিল করলেন। এটা অনৈতিক।
জানতে চাইলে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নাসিমা জামান বলেন, ‘আমাকে উপ-উপাচার্য বলেছিলেন আমি যেন উপাচার্যের সঙ্গে কথা না বলে সভা না করি। তার সেই কথাতেই আমি নির্দেশনা আকারে নোটিশ দিয়েছি। কিন্তু শিক্ষকরা উল্টো বুঝেছেন। আমি প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করেও পরামর্শ চেয়েছি। প্রশাসন বিষয়টি দেখবে বলে কথা দিয়েছে। তাদের নির্দেশনা পাওয়ার পরই পরবর্তী সভা আহ্বান করা হবে।’
শিক্ষকদের অনাস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের অনাস্থার বিষয়ে আমি এখনও জানি না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। তাই এখন কোনও মন্তব্য করতে চাই না।’
রুখসানা পারভীনও অভিযোগ করেছেন, তার নামেও বিভাগের সহকর্মীরা ‘মানহানিকর’ তথ্য ছড়িয়েছেন। প্রতিকার চেয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। রুখসানা পারভীন বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাত করে প্রতিকার চেয়েছি। তদন্ত কমিটিও দাবি করেছি। তদন্ত কমিটি হলেই সত্য বেরিয়ে আসবে। তারা কিভাবে আমাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ছড়িয়েছে তার সব প্রমাণ আমার কাছে আছে। তদন্ত কমিটির কাছে আমি তা দেবো।’
/এএম/