মামলার অভিযোগে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই (সোমবার) দিবাগত রাত ২টার দিকে পূর্বশত্রুতার জের ধরে শাহাদত ও তার সহযোগীরা হানিফকে শহরের এস এস রোড থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে রেলকলোনী মহল্লায় হানিফের শ্বশুর বাড়ির তালা ভেঙে ঘরের মধ্যে তাকে আটকে রেখে শরীরে পেট্রল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরদিন সকালে শ্বশুর বাড়ির লোকজন হানিফকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হানিফের শাশুড়ি আসমা খাতুন অভিযোগ করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত সাত-আট মাস আগে রেলকলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া আমার এক নাতনির সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদত। ওই ঘটনায় সদর থানায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগও দেওয়া হয়। তবে শাহাদত তার কয়েকজন অনুসারী ও স্থানীয়দের দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করান। এতে প্রায় ১০/১২ লাখ টাকা খরচ হয় জানিয়ে শাহাদত ক্ষতিপূরণ হিসেবে আমার কাছে নগদ পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। সেই টাকা দিতে না পারলে রেলকলোনি মহল্লার ঘরবাড়িসহ জমি লিখে দিতে চাপ দেন আমাদের। প্রাণভয়ে আমরা কলোনি থেকে পালিয়ে এস এস রোডে ভাড়া থাকি। পরে কো সে আমার জামাইকেই ধরে নিয়ে তার গায়ে আগুন দিয়েছেন।’ শাহাদত এর আগে অনেক অপরাধ করলেও টাকা ও প্রভাব-প্রতিপত্তির জোরে তিনি পার পেয়ে যান বলে জানান আসমা।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে শাহাদত হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনিও তা রিসিভ করেননি। শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দানিউল হক দানি বলেন, ‘২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত শাহাদত শহর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তার বিরুদ্ধে কাউকে পেট্রল দিয়ে ঝলসে দেওয়ার ঘনা ষড়যন্ত্রমূলক।’
তবে সদর থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বারেক বলেন, ‘২০১৪ সালে সিরাজগঞ্জ শহরের রেলকলোনি মহল্লায় কাজীপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনকে মারধর ও তার বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দু’টি মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় শাহাদতও গ্রেফতার হয়েছিলেন। পরে বাদীর সঙ্গে তিনি মীমাংসা করে নিয়েছেন। সাত-আট মাস আগে তার বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলাও হয়। সেটিও তিনি মীমাংসা করে নেন। বাদী এভাবে মীমাংসা করলে তো পুলিশেরও কিছু করার থাকে না।’
এদিকে, সিরাজগঞ্জ আড়াইশ শয্যার সদর হাসপাতালের চিকিৎসক জালাল আহম্মেদ জানিয়েছেন, হানিফের শরীরের পঁচিশ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ।
আরও পড়ুন-
তুফান ও তার স্বজনদের ব্যাপারে তদন্ত করবে দুদক
সাবেক আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে ট্রাকচালকের শরীর ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ
/টিআর/