পিনাক-৬ লঞ্চডুবির তিন বছরেও জমা হয়নি অভিযোগপত্র

পিনাক-৬ লঞ্চ (ফাইল ছবি)মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে পিনাক-৬ লঞ্চ দুর্ঘটনার তিন বছরেও বিচারের আওতায় আসেনি অভিযুক্তরা। এ সময়ে সাত বার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদল হলেও আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া সম্ভব হয়নি। অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন হওয়া ২১ জনের মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও তাদের মধ্যে ১৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়নি। এছাড়া, সরকারি হিসেবে নিখোঁজ ৬১ জন যাত্রীর সন্ধান মেলেনি আজও। অনেকের পরিবার পায়নি কোনও সহযোগিতা। আজ  শুক্রবার (০৪ আগস্ট) বিয়োগান্তক এ দুর্ঘটনার তিন বছর পূর্তি হচ্ছে।

বেঁচে যাওয়া দুই শিশু (ফাইল ছবি)২০১৪ সালের ৪ আগস্ট প্রায় আড়াইশ যাত্রী নিয়ে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে পদ্মা নদীতে ডুবে যায় এমভি পিনাক-৬ নামের লঞ্চটি। এ ঘটনায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রাণে বেঁচে যান শিবচর উপজেলার উত্তর বাখরেরকান্দি এলাকার ভ্যানচালক তারা মিয়া। তিন দিন পর তার ছেলে নূরে আলমের মরদেহ ভোলার চরফ্যাশন থেকে উদ্ধার করা হলেও এখনও নিখোঁজ তার মেয়ে শাহিনুর। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, আরও ৬১ যাত্রীর সন্ধান মেলেনি। তাদের বেশিরভাগই শিবচর উপজেলার বাসিন্দা।

উত্তর বাখরেরকান্দি এলাকার গোলেনুর বেগম বলেন, তার স্বামী তারা মিয়া ঘটনার পর থেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। ছেলে-মেয়েকে হারিয়ে দিশেহারা তাদের পরিবার। একই অবস্থা নিহত ও নিখোঁজ প্রায় সব পরিবারের।

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ বলেন, ‘অজ্ঞাত পরিচয়ের মধ্যে ডিএনএ টেস্ট করে তিন জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া, ডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন হলেও নিহতদের স্বজন চিহ্নিত করতে না পারায় শিবচর পৌর কবরস্থানে দাফন করা ১৮ জনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

লঞ্চডুবিতে নিহতদের কবরএই লঞ্চ দুর্ঘটনায় মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানায় ৬ জনকে আসামি করে মামলা হলে লঞ্চের মালিক কালু মিয়া ও তার ছেলে লিমন গ্রেফতারের কিছুদিন পরে জামিনে বেরিয়ে আসেন। বাকিরা এখনও রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার এসআই  মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তিনিসহ এ পর্যন্ত সাত জন কর্মকর্তা এই মামলা তদন্ত করেছেন। তিনি দুই মাস আগে মামলার দায়িত্ব পেয়েছেন।  কবে নাগাদ এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হবে তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

/এএম