প্রতিবন্ধী গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগ গ্রাম্য সালিশে মীমাংসা

সিরাজগঞ্জসিরাজগঞ্জের উল্লাপাডা উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া মধ্যপাড়ায় সংখ্যালঘু জেলে সম্প্রদায়ের এক প্রতিবন্ধী গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত গ্রাম্য সালিশে মীমাংসা করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি ও সংখ্যালঘু সম্প্রাদায়ের মাতবরদের উপস্থিতিতে শুক্রবার (৪ আগস্ট) রাতে মীমাংসা করা হয়। ভিকটিম বা তার স্বামী মামলা করতে রাজি না হওয়ায় গ্রাম্য বৈঠকেই এটির মীমাংসা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম নান্নু।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, ভিকটিমের স্বামী পাঁচশ টাকা ফি জমা দিয়ে চেয়ারম্যান বরাবর নালিশের আলোকেই গ্রামের সুধাংশু শেখর হালদারের বাড়িতে বৈঠক বসে। উভয় পক্ষের লোকজন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মাতবর এবং চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি হিসেবে আমি ছিলাম বৈঠকে।
ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম নান্নু বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনা না ঘটলেও যৌন হয়রানী করতো আব্দুল কাদের বিশুর ছেলে আব্দুল খালেক। গৃহবধূকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো বলে আমরা পরস্পর জেনেছি।’ তবে ভিকটিমের স্বামী স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘মামলা করলেও বিপদ, আবার চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের কথা না শুনলে আরেক বিপদ।’
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) মহসিন হোসেন বলেন, ‘শুক্রবার রাতে ওই গ্রামে গেলে মামলা করা তো দুরের কথা পুলিশের কাছে তারা ধর্ষণের বিষয় স্বীকারই করেননি। তাদের থানায় আসতে বলা হলেও শনিবার বিকেল পর্যন্তও তারা আসেননি।’

থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘মীমাংসার বিষয়টি আমরা অবগত নই। এ ধরনের ধর্ষণের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে মিমাংমারও কোনও সুযোগ নেই।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) রাতে সংখ্যালঘু জেলে স্বামী গ্রামের পাশের একটি বিলে মাছ ধরতে গেলে ওই প্রতিবন্ধী গৃহবধূকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে একই গ্রামের আব্দুল কাদের বিশুর ছেলে লম্পট আব্দুল খালেক। শুক্রবার একদল গণমাধ্যম কর্মী গ্রামে গেলে ভিকটিম ও তার স্বামী এ বিষয়ে অভিযোগ করেন।

আরও পড়ুন
উল্লাপাড়ায় গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ

/এসএমএ/