লাইলীকে হত্যার বিচার চেয়ে দাশিয়ারছড়ায় মানববন্ধন

মানববন্ধনগৃহকর্মী লাইলীকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাশিয়ারছড়ায় মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। শনিবার (৫ আগস্ট) বিকাল পাঁচটায় দাশিয়ারছড়ার কালিরহাট বাজারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
শুক্রবার (৪ আগস্ট) বনশ্রী জি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়ি থেকে কুড়িগ্রামের দাশিয়ারছড়ার লাইলীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেন ফুলবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ, সাবেক চেয়ারম্যান মইনুল হক, বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় কমিটির (বর্তমানে বিলুপ্ত) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দাশিয়ারছড়ার অধিবাসী গোলাম মোস্তফা, আলতাফ হোসেন, মনির হোসেনসহ বিলুপ্ত ছিটমহলের প্রায় পাঁচ শতাধিক অধিবাসী।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, ‘আমাদের এলাকার মেয়ে লাইলীকে পরিকল্পিতভাবে বাড়ির মালিক হত্যা করেছে। পাওনা টাকা চাওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়। জীবিকার তাগিদে লাইলী ঢাকায় যান, কিন্তু তাকে লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরতে হলো।’ বক্তারা সরকারের কাছে লাইলীর দুই শিশু সন্তান মরিয়ম ও আতিকুলের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেওয়ার দাবি জানান। সেইসঙ্গে লাইলীর স্বামী ভারতে বন্দি নজরুলকে দ্রুততম সময়ে ছাড়িয়ে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন।

লাইলির ছবিউল্লেখ্য, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাশিয়ারছড়ার কালিরহাট বাজার সংলগ্ন সমন্বয় পাড়ায় লাইলীর বাবার বাড়ি। মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনে শুক্রবার বিকালেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন লাইলীর বাবা নজরুল ইসলাম। মেয়ের মৃত্যুর খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা আলেয়া বেগম।
পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, দশ-বারো বছর আগে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের মধ্যকাশিপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় লাইলীর। কয়েক বছর আগে নজরুল কাজের জন্য ভারতে চলে যান। প্রায় দেড় বছর ধরে ভারতের কুচবিহার জেলার কারাগারে বন্দি রয়েছেন তিনি। গত বছর তার ননদের (স্বামীর বোন) সঙ্গে সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় কাজ করতে যান লাইলী। সাত মাস আগে একবার বাড়িতে এসেছিলেন।

শুক্রবার (৪ আগস্ট) বনশ্রী জি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়ি থেকে লাইলীর (২৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

/এসএমএ/এনআই/

আরও পড়ুন

লাইলীর গলায় ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে