আহমদ শফীর ব্যক্তিগত সচিব মুনির আহমেদ বিষয়টি জানিয়েছেন।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হুজুর রাত সোয়া নয়টায় ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এর আগে রাত পৌনে নয়টায় দিল্লি থেকে একটি ফ্লাইটে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন তিনি।’
মুনির আহমেদ বলেন, ‘বিমানবন্দর থেকে মোটরগাড়ি শোভাযাত্রার মধ্যদিয়ে হুজুরকে মাদ্রায় নিয়ে আসা হয়। এখানে তাকে দেখতে আগে থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও হেফাজত নেতাকর্মী জমায়েত হয়েছিলেন। তারা এখানে তাকে আরেক দফা অভ্যর্থনা প্রদান করেন ।’
হেফাজত সূত্র জানায়, শাহ আহমদ শফী বিমানবন্দর থেকে বাইরে আসলে সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাকে আহলান, সাহলান বলে বরণ করে নেন। এসময় অনেককে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতেও দেখা যায়।
অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসার সহযোগী পরিচালক হেফাজত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরী, মুফতী জসীম উদ্দীন ও শফী ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাহমুদুল হাসান ফতেপুরী সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘হেফাজত আমিরের দীর্ঘ অসুস্থতায় আমরা অনেকটাই এতিমের মতো দিন কাটিয়েছি। আমরা ছিলাম চরম উদ্বিগ্ন ও বেদনাকাতর। পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে শত কোটি শোকরিয়া, তিনি দয়া পরবশ হয়ে হযরতকে সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরে আসার তাওফিক দিয়েছেন। আজ আমাদের জন্য অনেক খুশীর দিন। আমরা যেন আবার ছায়া ফিরে পেয়েছি।’
মুফতি জসীম উদ্দীন বলেন, ‘আজ আমাদের আকাশ থেকে সেই হতাশা ও চরম উদ্বেগের মেঘ কেটে গেছে। জামিয়া ক্যাম্পাসের ইলমি বাগান আপনার প্রত্যাবর্তনে পুনরায় স্নিগ্ধ সুবাসিত হয়ে ওঠবে।’
এসময় অন্যান্যের মধ্যে হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষাপরিচালক মুফতী নূর আহমদ, মুহাদ্দিস শোয়াইব আহমদ, কবীর আহমদ, মুহাম্মদ ওমর, মুফতী কিফায়াত উল্লাহ, মাওলানা আহমদ দীদার, ফোরকান আহমদ, আশরাফ আলী নিজামপুরী, মুহাম্মদ রাশেদ, মীর মুহাম্মদ ইদরিস, আনওয়ার শাহ আযহারী, হাফেজ মুহাম্মদ ইসমাঈল, মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ, শফি উল্লাহ, জাকারিয়া নোমান ফয়জী, মুহাম্মদ ইবরাহীম, আবুল হাসেম ও মুনির আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে হেফাজত আমির মুনাজাত করে অভ্যর্থনা সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, ৯৬ বছর বয়সী শফি বিগত দুই মাস ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। গত ২২ জুলাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। ওইদিন সকাল ১০টায় শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে একটি ফ্লাইটে করে দিল্লির পথে রওনা হয়েছিলেন।
এর আগে বার্ধক্যজনিত রোগে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৮ মে তাকে চট্টগ্রামের সিএসসিআর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে ৬ জুন তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকায় আজগর আলী হাসপাতালে প্রায় এক মাস ৪ দিন চিকিৎসা শেষে গত ১০ জুলাই তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।
/এপিএইচ/