কুমিল্লায় বেসামাল সবজি বাজার, বিপাকে সাধারণ মানুষ

কুমিল্লায় সবজির দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ সিমলা রাণী দাস পেশায় একজন ধোপা। কুমিল্লা নগরীর একটি লন্ডি দোকানের সঙ্গে চুক্তিতে ধোপার কাজ করেন তিনি। অনেক আগেই স্বামী আর ছেলেকে হারিয়েছেন। বর্তমানে দুই মেয়েসহ পরিবারে তারা তিনজন সদস্য।

শনিবার (৫ আগস্ট) দুপুরে নগরীর রাণীর বাজার, নিউ মার্কেট কাঁচা বাজার ঘুরে রাজগঞ্জ বাজারে গিয়ে দেখা হয় সিমলা রাণীর সঙ্গে। বগলের নিচে কিছু পুরনো কাপড়। হাতে একটি বাজারের ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন সবজি দোকানের সামনে । দর কষাকষি করছেন দোকানির সঙ্গে। সিমলা রাণী দাস সাহস করছেন না এক কেজি সবজি ক্রয় করতে। কারণ কুমিল্লার কাঁচাবাজারগুলোতে তরকারির দাম এতটাই বেড়ে গেছে যে, স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য তা কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।  ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকার নিচে কোনও সবজি পাওয়া যাচ্ছে না।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে কুমিল্লার প্রধান সবজি বাজার রাজগঞ্জ, রাণীর বাজার ও নিউমার্কেট এলাকার সবজি বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, ২-১ সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচ, টমেটো, সিম, করলা, বেগুন ও শসাসহ সব ধরনের সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৫০ টাকায়, টমেটো ১৪০ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, কচুর লতি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৫৫ টাকা, করলা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, পটল ৬৫ টাকা, কচুমুখী ৫০, দুন্দল ৫৫, ঝিঙ্গা ৬০, পেঁপে ৪০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬৫-৭০ টাকা, চাষ শসা ৫০ টাকা, দেশি শসা ৬০ টাকা,  আঁকরি ৬০ টাকায়, বেগুন ৫৫ টাকা, ধনিয়া পাতা ২৩০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নিত্যদিনের এসব সবজির দাম কুমিল্লার সাধারণ মানুষের নাগালের বাহরে। চালের বাজার ও সবজির বাজার দিন দিন বেসামাল হয়ে উঠায় নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষেরা তিন বেলা খাবার নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পরিবহন ব্যবস্থা খারাপ ও বৃষ্টির কারণে পর্যাপ্ত জোগান না থাকায় সবজি দাম বেশি বলে বিক্রেতারা জানান।

কুমিল্লা রাজগঞ্জ বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মো. শামীম বলেন, ‘আমরা বেশির ভাগ সবজি উত্তর অঞ্চল থেকে পরিবহনযোগে আমদানি করি। এবারের টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে  সবজি ও ফসলের  ক্ষতি হয়েছে। তাই আমাদের চাহিদা অনুসারে আমদানি কম। এছাড়া এক গাড়ি সবজি উত্তর অঞ্চল থেকে কুমিল্লায় আনতে পরিবহন খরচ দিতে হয় ১৫ হাজার টাকা। তার মধ্যে টোল, চাঁদা ও ট্রাফিক পুলিশের হয়রানিতো আছেই।’

বাজারে সবজি ক্রয় করতে আসা সিমলা রাণী দাস বলেন, ‘চালের দর যে হারে বেড়েছে তাতে দু’মুঠো ভাত খেতেও কষ্ট হচ্ছে। এখন আবার দেখছি ৪৫ থেকে ৫০ টাকার নিচে কোনও সবজি নেই। এখন ভাত খাবো না তরকারি খাবো বুঝতে পারছি না। ’

বাংলাদেশ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কুমিল্লা জেলার সহকারী পরিচালক মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘সবজি বাজারে আমাদের নিয়মিত মনিটরিং রয়েছে। আমরাও বুঝতে পারছি বাজারে সবজির দর প্রতিদিন বাড়ছে। কেন বা কী কারণে সবজির দর এভাবে বাড়ছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ আমরা এখনো পাইনি। তবে কোনও পাইকারি ব্যবসায়ী সবজির দাম নিয়ে কারসাজি করছে- এমন অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখবো এবং ব্যবস্থা নেবো।

/এপিএইচ/