রবিবার (০৬ আগস্ট) বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের রায় ঘোষণার পর শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মশুরা গ্রামে বিশ্বজিতের বাড়িতে গেলে সাংবাদিকদের এভাবে নিজের অসন্তোষের কথা জানান অনন্ত দাস।
বিশ্বজিতের মা কল্পনা রানী দাস বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে ছেলে আমাকে মা বলে ডাকে না। মা হিসেবে এটা যে কত বেদনার, তা কি কেউ বোঝে না?’ নিম্ন আদালতের রায়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আশায় বুক বেঁধে ছিলাম, অপরাধীদের শাস্তি কার্যকর হবে। কিন্তু এখন কি হলো? তাদের সাজা কমলো, খালাস পেলো। আমরা এ রায় মানি না। বিশ্বজিতের হত্যাকারীরা যেন পার না পায়— এটাই রাষ্ট্রের কাছে আমাদের একমাত্র চাওয়া।’
বিশ্বজিতের প্রতিবেশী ঘোষপাড়া গ্রামের সুবীর ঘোষ বলেন, ‘বিশ্বজিতের পরিবারের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে অপরাধীরা অপরাধ করার ক্ষেত্রে উৎসাহিত হবে।’
বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় দু’জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া চার জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দু’জনকে খালাস দেওয়া হয়। এছাড়াও বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে খালাস দেওয়া হয়। বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।
২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয় বিশ্বজিৎ দাসকে। বিশ্বজিতকে হত্যার ঘটনায় ওই রাতে সূত্রাপুর থানায় মামলা করে পুলিশ। পরদিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এরপর সাত আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
/এনআই/এএম