কিস্তি শোধ না করায় ছাগল ও হাড়ি-পাতিল নিয়ে গেলো এনজিও!

নীলফামারী

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি দিতে না পারায় এক নারী গ্রাহকের ৬টি ছাগল ও হাড়ি-পাতিল নিয়ে গেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সেলফ হেলফ অ্যান্ড রিহেবিলিটেশন প্রোগ্রামের (শার্প) কর্মীরা। শনিবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় সৈয়দপুরের বকসা পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শার্পের ওই ঋণ গ্রহীতার নাম নিলুফা আক্তার। তিনি সৈয়দপুরের বকসা পাড়া এলাকার আইয়ুব আলীর স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুরের বকসা পাড়া এলাকার কামারপুকুর বাজারে শার্পের শাখা অফিস রয়েছে। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি এই শাখা অফিসের কর্মী মজিয়া খাতুনের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা ঋণ নেন নিলুফা। ৩১ জুলাইয়ের আগ পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে সোমবার ৩৫০ টাকা করে কিস্তি শোধ করে আসছিলেন তিনি। সম্প্রতি নিলুফার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। এতে ৩১ জুলাই তিনি কিস্তি শোধ করতে পারেননি। শনিবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিলুফার বাড়িতে হাজির হন শার্পের কামাপুকুর বাজার শাখার ম্যানেজারসহ প্রায় ৮-১০ জন কর্মী। তারা নিলুফাকে কিস্তির জন্য চাপ দিতে থাকেন। এর এক পর্যায়ে তারা নিলুফার ঘরে ঢুকে হাড়ি-পাতিল ও উঠোনে বেঁধে রাখা ৬টি ছাগল নিয়ে চলে যায়। শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত ছাগল ও হাড়ি-পাতিল ফেরত না পাওয়ায় শার্পের কামারপুকুর বাজার শাখার ম্যানেজার, ২ কর্মীসহ অজ্ঞাত আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে সৈয়দপুর থানায় একটি অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমান বলেন, ‘নিলুফা ও তার স্বামী আইয়ুব আমার কাছে এসে মৌখিক অভিযোগ করেছে। এ নিয়ে কথা বলার জন্য আমি ওই এনজিও কর্মীদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করি। কিন্তু তারা আমার সঙ্গেও বাজে আচরণ করেছে। পরে বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

এ ব্যাপারে শার্পের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব-উল-আলম বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত। এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সৈয়দপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বজলুর রশীদ বলেন, ‘দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। হতদরিদ্রদের উন্নয়ন ঘটছে। এ রকম সময়ে কোনও এনজিও-র হাতে হতদরিদ্র কেউ নির্যাতনের শিকার হবেন, এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমি বিষয়টি জানার পর ওই এনজিও-র নির্বাহী পরিচালককে তলব করেছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ঘটনার শিকার নারীর কাছ থেকে এখনও অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

ওসি আমিরুল ইসলাম, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/এমএ/