চট্টগ্রামে উদ্বোধনের অপেক্ষায় ৯ মডেল ফার্মেসি, ২১ মেডিসিন শপ

মডেল ফার্মেসি (ছবি- ইন্টারনেট থেকে নেওয়া)

কোন ওষুধ কখন খেতে হবে, প্রতি ডোজে কী পরিমাণ খেতে হবে, এসব বিষয় নিয়ে আর দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে না রোগী কিংবা তার স্বজনদের। বন্দর নগরী চট্টগ্রামে চালু হতে যাচ্ছে ৯টি মডেল ফার্মেসি ও ২১টি মডেল মেডিসিন শপ। এসব দোকানে গেলেই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে দিবেন ফার্মাসিস্টরা। কখন কী ওষুধ খেতে হবে, কী পরিমাণ খেতে হবে, সবই বলে দেবেন তারা। ওষুধ শেষ হওয়ার আগে মোবাইল করে সেটিও জানিয়ে দেবেন। ওষুধ প্রশাসন চট্টগ্রাম সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ওষুধ প্রশাসন চট্টগ্রামের সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে ৯টি মডেল ফার্মেসি এবং ২১টি মেডিসিন শপ ইতোমধ্যে প্রস্তুত অবস্থায় আছে। শিগগির এ ৩০টি ওষুদের দোকান উদ্বোধন করা হবে। এসব দোকান চালু হওয়ার পর রোগীকে কোন ওষুধটি কী পরিমাণ দেওয়া হয়েছে, সেই তথ্য সংরক্ষণ করা হবে কম্পিউটারে। পরে ওষুধ শেষ হওয়ার আগেই ওই রোগীকে ফার্মেসি থেকে ফোন করে তা মনে করিয়ে দেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ৩০টি ফার্মেসি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা না হলেও ইতোমধ্যে এসব দোকানে ওষুধ বেচাকেনা করা হচ্ছে। দোকানে ক্রেতাদের ভালো সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে। ধীরে ধীরে বন্দরনগরীর সব ফার্মেসিকে এই সেবার আওতায় আনা হবে।’

ওষুধ প্রশাসনের নীতিমালা অনুযায়ী, মডেল ফার্মেসির আয়তন হতে হবে কমপক্ষে ২৫০ বর্গফুট এবং মেডিসিন শপের হতে হবে ১৫০ বর্গফুট। দুই ক্যাটাগরির ফার্মেসিকেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। মডেল ফার্মেসিতে ‘এ’ গ্রেড (গ্র্যাজুয়েট) আর মেডিসিন শপে ‘বি’ কিংবা ‘সি’ গ্রেড (ডিপ্লোমা) ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিতে হবে। ওষুধ নীতিতে অনুমোদিত প্রয়োজনীয় ৩৯টি ওষুধ কেবল বিক্রি করতে পারবেন ফার্মাসিস্টরা। তবে প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনও ধরনের অ্যান্টি-বায়োটিক বিক্রি করতে পারবে না।’

ওষুধ প্রশাসন সূত্র জানায়, ৯টি মডেল ফার্মেসির মধ্যে রয়েছে বায়েজিদ বোস্তামি বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এলাকার মেসার্স হাফছা হানিফ মেডিসিন ফার্মা, একই এলাকার কুয়াইস সংযোগ সড়কের মেসার্স কেয়ার অ্যান্ড কিউর ফার্মেসি, চকবাজার ও আর নিজাম রোডস্থ মেসার্স প্রিয় ফার্মেসি, পাঁচলাইশ এলাকার মেসার্স কুইক প্রেসক্রিপসন সার্ভিস (কিউ.পি.এস), চকবাজারস্থ মেসার্স এমসি এম ফার্মা, দামপাড়াস্থ মেসার্স কুইক মেড, ও আর নিজাম রোডস্থ মেসার্স কুইক প্রেসক্রিপসন সার্ভিস (কিউ. পি. এস), আগ্রাবাদস্থ চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল ফার্মেসি, হালিশহরস্থ মেসার্স কুইক প্রেসক্রিপসন সার্ভিস (কিউ. পি. এস)।

অন্যদিকে, মডেল মেডিসিন শপের মধ্যে বন্দর থানাধীন মেসার্স সিবলী ফার্মেসি, বাকলিয়াস্থ মেসার্স পপুলার মেডিসিন শপ, লালখান বাজারস্থ মেসার্স মাঝুরি মেডিসিন শপ, খুলশীস্থ মেসার্স চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল ফার্মেসি, পাঁচলাইশস্থ মেসার্স সাহান মেডিকো, একই এলাকার মেসার্স সাথী মেডিকেল হল অ্যান্ড সার্জিক্যাল, মেসার্স এপিক মেডিসিন কর্ণার, মেসার্স পপুলার ডায়াবেস্টিক সেন্টার লি., মেসার্স সেবা ফার্মেসি, মেসার্স বিছমিল্লাহ ফার্মেসি, মেসার্স হাসান ফার্মেসি অ্যান্ড সার্জিক্যাল, মেসার্স শাহাদৎ ফার্মা, মেসার্স জোবেদা ফার্মেসি, মেহেদিবাগস্থ মেসার্স মাই কিউ. পি. এস ফার্মেসি, দামপাড়াস্থ মেসার্স পিনাকল ফার্মেসি, অক্সিজেন মোড়স্থ মেসার্স এন এম অক্সিজেন ফার্মেসি, বায়েজিদস্থ মেসার্স মার্ক ফার্মেসি, একই এলাকার মেসার্স আফছার মেডিসিন শপ, মেসার্স আল-শেফা ফার্মেসি, পাহাড়তলীস্থ মেসার্স জনতা ফার্মেসি ও আগ্রাবাদস্থ মেসার্স ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ফার্মেসি।

ওষুধ প্রশাসন চট্টগ্রামের পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মডেল ফার্মেসি ও মেডিসিন শপে নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি করার সুযোগ নেই। কারণ যেসব ওষুধ বিক্রি করা হবে, তা তারা তাদের কম্পিউটারে লিপিবদ্ধ করে রাখবেন। আমরা মাঝেমধ্যে গিয়ে তা মনিটরিং করবো।’

ওষুধ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ১০ হাজারের অধিক লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মেসি আছে। ধীরে ধীরে এসব ফার্মেসিকে মডেল ফার্মেসির আওতায় নিয়ে আসা হবে।

এ প্রসঙ্গে মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘নগরীর সব ফার্মেসিকে এই সেবার আওতায় চলে আসতে হবে। অন্যথায় আমরা ফার্মেসিগুলোর ড্রাগ লাইসেন্স বাতিল করে দিব। মডেল ফার্মেসির সংখ্যা ক্রমান্নয়ে যখন বাড়তে থাকবে, তখন আমরা এই সেবার বাইরে থাকা ওই ফার্মেসিগুলোর ড্রাগ লাইসেন্স বাতিল করে দিবো।’

/এমএ/