বেসরকারি চ্যানেল যুমনা টেলিভেশনের স্টাফ রিপোর্টার হোসাইন জিয়াদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমাদের ক্যামেরা পারসনকে ডেকে জেলা প্রশাসক জিজ্ঞেস করেন, “কে তোমাদের আমন্ত্রন জানিয়েছে? তোমরা এ মিটিংয়ের সদস্য কিনা?” আমি বললাম, আপনার অফিসের স্টাফ অফিসার আমাকে এসএমএস পাঠিয়েছেন অনুষ্ঠান কাভার করতে। তিনি আমাদের কোনও কথা শুনতে রাজি হননি, অনুষ্ঠান থেকে আমাদের বের হয়ে যেতে বলেন।’
হোসাইন জিয়াদ আরও বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের এমন ব্যবহারে আমরা হতভম্ব হয়ে গেলাম। এভাবে ডেকে নিয়ে অপমানের কি প্রয়োজন ছিল!’
একইভাবে একুশে টেলিভিশন ও বাংলাভিশনের সাংবাদিকদেরও অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন হোসাইন জিয়াদ। বাংলাভিশনের চট্টগ্রাম ব্যুরোর ক্যামেরা পারসন আকবর মহুরী বলেন, ‘অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে তিনি আমাদের সভায় কথাবার্তা ধারণ না করতে অনুরোধ করেন। সংবাদ কাভার করতে গিয়ে যদি ভিডিও ধারণ না করতেই পারি তবে সেখানে থেকে লাভ কি। তাই তখনই সভাস্থল ত্যাগ করি।’
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, বৈঠকের আগের দিন বুধবার জেলা প্রশাসনের স্টাফ অফিসার সংবাদকর্মীদের মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়ে সংবাদ কাভারের আমন্ত্রণ জানান। যুমনা টেলিভেশনের চট্টগ্রাম ব্যুরোর প্রধান জামশেদ রেহমান চৌধুরী বলেন, ‘গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরীর দুর্ব্যবহারের মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে গেছে। জেলা প্রশাসনে সাংবাদিক প্রবেশ নিষিদ্ধ কিনা তা জেলা প্রশাসককে জানাতে হবে।’
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী মোবাইল ফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকালের মিটিংএ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি। টিভি সাংবাদিকদের শুধু সার্বক্ষণিক ভিডিও না করতে অনুরোধ করা হয়েছিল।’
কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি তার মোবাইল ফোনটি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মাসুকুর রহমান সিকদারের হাতে ধরিয়ে দিয়ে তার কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে নিতে বলেন। মাসুকুর রহমান সিকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসক মহোদয় এ ধরনের কথা বলেননি। তিনি অনুষ্ঠানে আগত সংবাদকর্মীদের সার্বক্ষণিক ভিডিও ধারণ না করতে অনুরোধ করেছিলেন। বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সাংবাদিক ভাইদের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব তৈরি করা হচ্ছে। আপনারা বিষয়টি ভালোভাবে খোঁজখবর নেন। আমরা সবসময় সাংবাদিক ভাইদের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করি। আপনাদের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক ছিল, থাকবে।’
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় তুলেছেন চট্টগ্রাম ব্যুরোতে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।
/এএম