দিনাজপুরে মামলা তুলে না নেওয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতন, স্বামীসহ আটক ৩

দিনাজপুরদিনাজপুরে তালাক দেওয়ায় দায়ের করা মামলা তুলে না নেওয়ায় এক গৃহবধূর উপর বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে তার স্বামী ও পরিবার। ওই মহিলার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় ওই গৃহবধূকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ওই গৃহবধূকে ধর্ষণও করা হয়েছে।

চিকিৎসক জানিয়েছে, আহত ওই গৃহবধূর শরীরে নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

দিনাজপুর কোতয়ালী থানা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে দিনাজপুরের সদর উপজেলার ৬নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের তরিমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে ওই গৃহবধূর বিয়ে হয়। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। গত বছর যৌতুকসহ বিভিন্ন অজুহাতে গৃহবধূর উপর নির্যাতন শুরু করে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন। পরে গত বছরে এ নিয়ে স্ত্রীকে তালাক দেয় স্বামী এবং বাড়ি থেকে চলে যেতে নির্যাতন শুরু করে। এই ঘটনায় গত বছরের ১৬ অক্টোবর ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে স্বামীসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। পরে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য স্বামী ও পরিবারের লোকজন নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। এতেও কাজ না হলে গত বুধবার বিকালে স্বামী ও তার স্বজনেরা ওই গৃহবধূকে ঘরের ভেতর আটকিয়ে নির্যাতন শুরু করে। এ সময় তার চিৎকারে এলাকাবাসী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ছুটে আসলে পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় গুরুত্র অবস্থায় ওই গৃহবধুকে উদ্ধার করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডি্ক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর মা ও ভাই-বোনদের অভিযোগ, নির্যাতনের পাশাপাশি ঘরে তাকে ধর্ষণ করা হয়। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন তারা। ৬নং আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইলিয়াস হোসেন জানান, চিৎকার শুনতে পেয়ে তিনিসহ স্থানীয়রা এগিয়ে যান। পরে গুরুত্র আহত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয়। পরে মহিলা সদস্য সাবিনা ইয়াসমিনকে ডেকে ওই গৃহবধূর শরীরে প্রথমে পানি ঢালা হয় ও পরে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইনডোর মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. হাসনাত পারভেজ জানান, ওই গৃহবধূর শরীর ও স্পর্শকাতর স্থানে নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। বর্তমানে রোগীর অবস্থা অনেক ভালো জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। দিনাজপুর কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফখরুল ইসলাম জানান, মামলা দায়েরের পর সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর স্বামী সিরাজুল ইসলাম, ভগ্নিপতি আবু বক্কর সিদ্দিক ও বোন লাইলি বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

/এএম