মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত রাজাকার হাফিজ উদ্দিন গ্রেফতার

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রাজাকার মো. হাফিজ উদ্দিন গ্রেফতারএকাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রাজাকার মো. হাফিজ উদ্দিনকে (৬৮)আটক করেছে র‌্যাব। শনিবার (১২ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের ইটনা থেকে র‌্যাব-১৪ এর কিশোরগঞ্জের ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করেন। তাকে করিমগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হবে হবে। আটক হাফিজ উদ্দিন জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার খুদিরজঙ্গল গ্রামের বাসিন্দা। 
র‌্যাব-১৪ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক মো. হাসান মোস্তফা স্বপন রাজাকার হাফিজ উদ্দিনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জেলার ইটনার উপজেলার বাদলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. গনি ভূঞা জানান, শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে বর্শিকোণা গ্রাম থেকে পলাতক রাজকার হাফিজ উদ্দিনকে আটক করে র‌্যাব।

চেয়ারম্যান আরও জানান, ইটনা গ্রামে রাজাকার হাফিজ উদ্দিন তার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন। মেয়ের বাড়ির পাশের একটি বাড়িতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন।

হাফিজ উদ্দিন একাত্তরে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। তাকে স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকাণ্ডসহ করিমগঞ্জে অপহরণ, নির্যাতন, হত্যা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগসহ মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর আগে থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৩ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল  করিমগঞ্জের রাজাকার কমান্ডার গাজী আবদুল মান্নান, রাজাকার হাফিজ উদ্দিনসহ চার রাজাকারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাদের বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতা বিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১০ সালের ২ মে উপজেলার আয়লা গ্রামের মিয়া হোসেনের ছেলে গোলাপ মিয়া কিশোরগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৬ আদালতে একটি মামলা করেন। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামালটি তদন্ত করে। তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর গাজী আবদুল মান্নান, ক্যাপ্টেন এটিএম নাছির, তার ভাই অ্যাডভোকেট শামছুদ্দিন আহমেদ ও অন্য দুই রাজাকার হাফিজ উদ্দিন ও আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান। ২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য তিন রাজাকার হলো— উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের অ্যাডভোকেট এটিএম শামসুদ্দিন আহমেদ ও তার ভাই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন এটিএম নাসির উদ্দিন আহমেদ ও  খুদির জঙ্গল গ্রামের হাফিজ উদ্দিন। আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হচ্ছেন— হাইদনখালি গ্রামের আজহারুল ইসলাম। এদের মধ্যে বর্তমানে শামসুদ্দিন আহমেদ কারাগারে আটক আছেন।

আজ শনিবার হাফিজ উদ্দিনকে আটক করা হয়। বাকি দুই রাজাকার এটিএম নাসির উদ্দিন ও আজহারুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। এছাড়া ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত রাজাকার কমান্ডার আব্দুল মান্নান পলাতক অবস্থায় গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলার কাঁচপুর এলাকার একটি বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় অপহরণ, নির্যাতন, হত্যা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয় আদালতে। এর মধ্যে রয়েছে একাত্তরের ২৭ অক্টোবর করিমগঞ্জের আয়লা গ্রামে আটজনকে গুলি করে হত্যা, ২৩ আগস্ট উপজেলা ডাকবাংলোতে শান্তি কমিটির কার্যালয়ে একজনকে অপহরণ করে নির্যাতন ও হত্যা, ২৫ অগাস্ট পূর্ব নবাইদ কালিপুর গ্রামের এক নারীসহ দু’জনকে অপহরণ করে নির্যাতন ও হত্যা, ৭ সেপ্টেম্বর রামনগর গ্রামে এক সংখ্যালঘুকে আটক করে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা, ১৫ সেপ্টেম্বর আতকাপাড়া গ্রামে ২০-২৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ২৬ সেপ্টেম্বর খুদির জঙ্গলে একজনকে অপহরণ ও হত্যা এবং ১৩ নভেম্বর আয়লা গ্রামের একজনকে অপহরণ ও হত্যা।

/এসএমএ/