এবার নির্যাতনের পর গৃহবধূর চুল কেটে দিয়েছে স্বামী-শ্বশুর

নির্যাতনের পর গৃহবধূর চুল কেটে দিয়েছেন স্বামী, শ্বশুর ও শামুড়িবগুড়ায় তুফান সরকার ও তার সহযোগীদের হাতে এক কিশোরী ও তার মায়ের মাথার চুল ন্যাড়া করার রেশ কাটতে না কাটতে আবারও জেলার দুপচাঁচিয়া এলাকার এক গৃহবধূর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যৌতুক না পেয়ে ওই গৃহবধূর চুল কেটে দিয়েছেন স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি। 
এই ঘটনা দির্ঘদিন গোপন থাকলেও রবিবার (১৩ আগস্ট) বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সালিশ বসে। এতে সমঝোতা না হলে ঘটনার ৫৩ দিন পর গৃহবধূ বাদী হয়ে সোমবার (১৪ আগস্ট) মামলা করেন। মামলার পর দুপুরে দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ স্বামী বজলুর রহমান (২৮) ও শ্বশুর শাহজাহান আলীকে (৪৮) গ্রেফতার করে। দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

থানা পুলিশ ও এলাকবাসী সূত্রে জানা গেছে,  দুপচাঁচিয়া উপজেলার চামরুল গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে বজলুর রহমান প্রায় তিন বছর আগে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের একটি কন্যা সন্তান হয়। সন্তানের বয়স দুই বছর হওয়ার পর বজলুর রহমান, তার বাবা শাহজাহান আলী ও মা সখেলা বেগম যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতন চালায়।

গত ৩০ জুন রাতে যৌতুক নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে বজলুর রহমান তার মায়ের হুকুমে গৃহবধূকে নির্যাতন করে এবং কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে দেন। পর দিন ১ জুলাই খবর পেয়ে বাবা ও দাদা চামরুল গ্রামে এসে গৃহবধূকে বাড়িতে নিয়ে যান। মেয়ের সংসারের আশায় তারা নির্যাতনের বিষয়টি গোপন করেন। সমঝোতা ব্যর্থ হলে গৃহবধূর পরিবার রবিবার সন্ধ্যায় জিয়ানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম তালুকদারকে অবহিত করেন। চেয়ারম্যান তাদের এ ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। সোমবার দুপুরে গৃহবধূ দুপচাঁচিয়া থানায় গিয়ে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ মামলা রেকর্ড করেই তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে বাড়ি থেকে স্বামী বজলুর রহমান ও শ্বশুর শাহজাহান আলীকে গ্রেফতার করে। এ সময় শ্বাশুড়ি সখেলা বেগম পালিয়ে যান।

দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘যৌতুক না পেয়ে গৃহবধুকে নির্যাতন করা হয়েছে এবং চুল কেটে দেয়। এ ঘটনায় মামলার পর দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

/এসএমএ/