নওগাঁয় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি

নওগাঁ শহরের রাস্তায় পানিনওগাঁর রাণীনগর উপজেলার বেতগাড়ী, ঘোষগ্রাম ও কৃষ্ণপুর এলাকায় নতুন করে আরও ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জেলা সদরের সঙ্গে আত্রাই উপজেলা ও নাটোর জেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। আত্রাই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মান্দায় দুইটি, আত্রাইয়ে একটি ও রাণীনগরে ছোট যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাঁচটি স্থানে ভেঙে গেছে। বাঁধ ভেঙে গিয়ে ঘরবাড়ি ও ফসল ডুবে যাওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবহেলাকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

তারা জানান, বন্যার পানিতে নওগাঁর ছয়টি উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক বিঘার ফসলি জমি তলিয়ে গেছে এবং কয়েক হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় এক লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মান্দায় নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ৩০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে অসহায় পরিবারগুলো বিশ্ব বাঁধে, স্কুলে ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের অভিযোগ এখন পর্যন্ত কোনও সরকারি সাহায্য বা ত্রাণ তাদের কাছে না পৌঁছায় মানবেতন জীবন-যাপন করছেন তারা।

জেলা প্রশাসক ড. মো. আমিনুর রহমান জানান, মোট ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আজ  মঙ্গলবার বিকালে ৩৩ মেট্রিক টন চাল ও ১ লাখ টাকা বন্যা কবলিত এলাকার জন্য পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। শহরের প্রধান সড়ক এক ফুট পানির নিচে। এ ছাড়াও পুরাতন কালেক্টরেট ভবন চত্বর, জেলা প্রশাসকের বাসভবন, পুলিশ সুপারের বাসভবন, জেলা পরিষদের ডাকবাংলো, মুক্তির মোড়, কাজীর মোড়, বিহারী কলোনী, বনানীপাড়া, উকিলপাড়া, কালীতলা, পার-নওগাঁ ১ থেকে দেড় ফিট পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

/এনআই/