২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পুকুরের মধ্যে বোমার তার খুঁজে পাওয়া চায়ের দোকানদার বদিউজ্জামান সরদার সেদিনের ঘটনার এভাবেই বর্ণনা দেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি আরও বলেন, ‘ওই ঘটনায় আমাকে হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ। পরে প্রধানমন্ত্রী আমাকে পুরস্কারও দেন।’ এই তারের সূত্র ধরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাস্থল থেকে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন হেলিপ্যাড থেকে উদ্ধার করা হয় ৮০ কেজি ওজনের আরেকটি বোমা। ব্যর্থ হয় কুখ্যাত জঙ্গি মুফতি হান্নানের চক্রান্ত।
এ মামলার অন্যতম সাক্ষী কোটালীপাড়া পৌরসভার মেয়র এইচএম অহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দিয়েছি। রায়ে খুশি হয়েছি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আল্লাহ সহায় ছিলেন বলেই প্রধানমন্ত্রী জনসভা শেষে প্রাণে বেঁচে ফিরেছিলেন।’ মামলার বাদী কোটালীপাড়া থানার তৎকালীন এসআই (এখন অবসরপ্রাপ্ত) নূর হোসেন বলেন, ‘ওই সময় আমি বাদী হয়ে কোটালীপাড়া থানায় একটি মামলা করি। অনেক তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দীর্ঘ ১৭ বছর পর মামলার রায় হয়েছে। এ রায়ে আমি খুশি। রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি।’
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালের ২২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোটালীপাড়া সফর ছিল। এ সফর উপলক্ষে কোটালীপাড়া শেখ লুৎফর রহমান সরকারি আদর্শ কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে জনসভার প্যান্ডেল তৈরি করা হয়। সফরের আগে ২০ জুলাই সেখানকার একটি চায়ের দোকানের পেছনে দেখতে পাওয়া একটি বৈদ্যুতিক তারের সূত্র ধরে জনসভাস্থল থেকে প্রথমে ৭৬ কেজি ওজনের একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়। পরদিন ৮০ কেজি ওজনের আরও একটি বোমা উদ্ধার করা হয়।
ওই বছরের ২৫ জুলাই পুলিশ গোপালগঞ্জ শহরের বিসিক শিল্পনগরী থেকে হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সির হেমাঙ্গনের ভাড়াকরা বাসভবন ও সাবান ফ্যাক্টরি থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে। মুফতি হান্নানের বাড়ি কোটালীপাড়ার হিরন গ্রামে। পাকিস্তানে একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনার সময়ে সে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। আফগান যুদ্ধেও অংশ নেয় কুখ্যাত এ জঙ্গি।
রবিবার এ মামলার রায় প্রকাশের পর গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য নজরুল ইসলাম হাজরা মন্নু সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন,‘কোটালীপাড়ায় কোনও জঙ্গির ঠাঁই হবে না। আমরা জঙ্গিবাদকে যেকোনও মূল্যে প্রতিহত করবো।’ কোটালীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘সাজাপ্রাপ্তদের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে সাজা কার্যকর করতে হবে।’
এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এনায়েত হোসেন ও জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক এমবি সাইফ জানান, কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে প্রধানমস্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পরে হলেও আমরা হত্যাচেষ্টা মামলার বিচার পেয়েছি। এ রায়ে আমরা খুশি। দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকর করার মাধ্যমে গোপালগঞ্জকে কলঙ্কমুক্ত করা হবে এমনটাই প্রত্যাশা আমাদের।’