রাজশাহীতে দুর্নীতির মামলায় ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেফতার

গ্রেফতার হওয়া হাসান মোহাম্মদ খালেদুল হক (ছবি-প্রতিনিধি)

৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় সোনালী ব্যাংকের রাজশাহীর তানোর শাখার সিনিয়র অফিসার হাসান মোহাম্মদ খালেদুল হককে গ্রেফতার করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে নগরীর ভেড়িপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। দুদকের রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী উপ-পরিচালক আরিফ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতার হওয়া হাসান মোহাম্মদ খালেদুল হকের বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার মনিগ্রাম এলাকায়।

আরিফ হোসেন জানান, ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সোনালী ব্যাংকের তানোর শাখার দুই কর্মকর্তা (সাময়িক বরখাস্ত) হাসান মোহাম্মদ খালেদুল হক ও নাজির হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় হাসান মোহাম্মদ খালেদুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং নাজির হোসেনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। নাজিরের বাড়ি নগরীর বহরমপুর ব্যাংক কলোনী এলাকায়।

তিনি আরও জানান, মমতা এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স আলম ইন্টারপ্রাইজ ও তানোর ইন্টারপ্রাইজের নামের তিনটি হিসাবের মাধ্যমে ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা তুলে খালেদুল হক। এর মধ্যে সে মমতা এন্টারপ্রাইজের হিসাব থেকে পাঁচ লাখ, মেসার্স আলম ইন্টারপ্রাইজের হিসাব থেকে ১০ লাখ এবং তানোর ইন্টারপ্রাইজের হিসাব থেকে তিন লাখ ৯০ হাজার টাকা জালিয়াতি করে আত্মসাত করে। ২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি এবং একই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি এ টাকা তুলে সে আত্মাসাত করে। অন্যদিকে, তানোর শাখার আইটি কর্মকর্তা নাজির হোসেন তার নিজস্ব পাসওয়ার্ড ব্যবহার ও হিসাবের রেকর্ডপত্র পরিবর্তন করে নাজমুল হোসেন নামের একটি হিসাব খুলে মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্সের মাধ্যমে ৪১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা আত্মসাত করে। ২০১৪ সালের ১১ মার্চ থেকে ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ অর্থ উত্তোলন করে সে আত্মসাত করে।

অন্য এক সূত্র জানায়, বুধবার (২৩ আগস্ট) সকালে হাসান মোহাম্মদ খালেদুল হক ও নাজির হোসেনের বিরুদ্ধে তানোর থানায় আলাদা দু’টি মামলা করেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক আরিফ হোসেন।

এ ব্যাপারে মামলা দু’টির তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘মোহাম্মদ খালেদুল হককে গ্রেফতারের পর নগরীর রাজপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।’