শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে দুই শতাংশ কমানোয় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানির পরিমাণ আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। নতুন করে চাল আমদানির জন্য প্রচুর পরিমাণে এলসি খুলেছেন আমদানিকারকরা। এতে করে দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের অভ্যন্তরে আটকে রয়েছে হাজার হাজার টন চাল। এসব চাল দেশে প্রবেশ করলে চালের দাম কমবে। আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
তবে চালের বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে চালের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারে পণ্যটির সরবরাহ বেড়েছে। তবে চালের দাম কমেনি। শুল্কহার ১০ শতাংশ থাকার সময়ে যে দামে চাল বিক্রি হয়েছিল এখনও সেই দামে আমদানিকৃত চাল বিক্রি হচ্ছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আগে চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্ক আরোপ ছিল। এছাড়া পড়তা না থাকায় স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানির পরিমাণ একেবারে কমে গিয়েছিল। এবার বোরো মৌসুমে ব্লাস্ট রোগ ও হাওরাঞ্চলে বন্যায় ধানক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় দেশে ধানের উৎপাদন কম হয়েছে। এতে চালের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে চালের দাম বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে চালের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দাম সাধারণের নাগালের মধ্যে রাখতে গত ২০ জুন আমদানিতে শুল্কহার ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরে আবারও দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গায় বন্যা দেখা দেওয়ায় গত ১৬ আগস্ট আমদানি শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে দুই শতাংশ করা হয়। এতে বন্দর দিয়ে চালের আমদানি আগের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ ট্রাক চাল আমদানি হচ্ছে।
সূত্র আরও জানায়, ১৯ আগস্ট বন্দর দিয়ে ১০৬ ট্রাকে তিন হাজার ৮৮১ টন, ২০ আগস্ট ৬৬ ট্রাকে দুই হাজার ৩৩৭ টন, ২১ আগস্ট ৭০ ট্রাকে দুই হাজার ৫২৬ টন, ২২ আগস্ট ৫২ ট্রাকে একহাজার ৮৮৬ টন, ২৩ আগস্ট ৬৯ ট্রাকে দুই হাজার ৫০২ টন চাল আমদানি হয়েছে। এভাবে গত পাঁচ দিনে বন্দর দিয়ে ৩৬৩ ট্রাকে ১৩ হাজার ১৩২ টন চাল আমদানি হয়েছে।
সূত্র জানায়, চলতি মাসের এক তারিখ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত একহাজার ২৫২ ট্রাকে ৪৪ হাজার ৮১৩ টন চাল আমদানি হয়েছে। আর জুলাই মাসে বন্দর দিয়ে একহাজার ৬৮৯ ট্রাকে ৫৭ হাজার ৪৮১ টন চাল আমদানি হয়েছিল।
আমদানিকারক মামুনুর রশিদ, হারুন উর রশীদ ও রাজিব দত্ত বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বন্দর দিয়ে চাল আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। তবে বাজারে এর তেমন প্রভাব পড়েনি। একসময় শুল্ক প্রত্যাহারের আশায় ১২-১৩ দিন করে আমদানি করা চাল বন্দরে আটকে রেখেছিলেন তারা। ওই সময় তাদের বাড়তি টাকা গুণতে হয়েছে। তাই বাজারে চালের দাম খুব একটা কমেনি। তবে নতুন চালানের চাল আসলে দাম কমবে।
হিলি বাজারের পাইকারি চাল বিক্রেতা অনুপ বসাক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শুল্কহার কমানোর প্রভাবে বাজারে চালের দাম কমেনি। তবে এখন ব্যাপক হারে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। তাই বাজারে চালের সরবরাহ খানিকটা বেড়েছে।
তিনি জানান, ভারত থেকে আমদানিকৃত স্বর্ণা জাতের চাল বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৯ টাকা কেজিতে। এছাড়া রত্না জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৪১ টাকা কেজি দরে। শুল্কহার ১০ শতাংশ থাকাকালীন এসব চাল একই দামেই বিক্রি হয়েছিল। তবে বন্দর দিয়ে চাল আমদানির প্রবাহ অব্যাহত থাকলে দাম কিছুটা কমতে পারে বলেও জানান তিনি।
হিলি স্থলবন্দর পরিচালনাকারী পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, চাল আমদানিতে শুল্কহার কমানোয় চাল আমদানির পরিমাণ অনেকটা বেড়েছে। এখন বর্তমানে বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক করে চাল আমদানি হচ্ছে।