চা বাড়ানসহ এই এলাকায় আত্মহত্যা প্রবণতা বেশি এবং এর কারণ খুঁজে না পাওয়ায় এই কর্মসূচি হাতে নেন কুলাউড়া সার্কেলের পুলিশ সুপার মো. আবু ইউছুফ।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) চা বাগানে এক শ্রমিকের আত্মহত্যার যথাযথ কারণ খুঁজে না পেয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চা বাগানের ম্যানেজারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়েছেন। পুলিশের এই কর্মকর্তা আত্মহত্যার কুফল নিয়ে মসজিদ, মন্দির ও গির্জায় আলোচনা করে জনসচেতনতা তৈরির তাগিদও দিয়েছেন চিঠিতে।
আবু ইউছুফ বাংলা ট্রিবিউনকে বেলেন, ‘আত্মহত্যার ঘটনায় ছয় মাসে ১০ থেকে ১২টি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কিন্তু একটিরও যথাযথ কারণ খুঁজে পায়নি। তাই আত্মহত্যা প্রতিরোধের বিভিন্ন মাধ্যম খুঁজতে গিয়ে প্রথমে মসজিদের ইমমাদের চিঠি দিয়েছি। পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চা বাগান, মন্দির ও গির্জা চিঠি পাঠানো হয়েছে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য।’
আবু ইউছুফ জানান, কুলাউড়া থানায় ৮৪ জনের অপমৃত্যু মধ্যে আত্মহত্যা করেছেন ২৮ জন এবং পানিতে ডুবে মারা গেছেন ৩০ জন। বড়লেখা থানায় ৪৮ জনের মধ্যে আত্মহত্যা করেছেন ২৪ জন এবং পানিতে ডুবে মারা গেছেন নয় জন এবং জুড়ীর ৩১ অপমৃত্যুর মধ্যে আত্মহত্যা করেছেন ২৫ জন। জুডী উপজেলায় মোট অপমৃত্যুর মধ্যে শতকরা ৮০ শতাংশই আত্মহত্যা। আর শুধু ফুলতলা চা বাগানেই আত্মহত্যা করেছেন তিন জন শ্রমিক।
চা শ্রমিকের নির্জনে আত্মহত্যার বিষয়টি উল্লেখ করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘কুলাউড়ার ঝিমাই চা বাগানের অলক চাষা (২২) নামের নামের এক শ্রমিক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পাহাড়ের নির্জনস্থানে আত্মহত্যা করেছেন এই শ্রমিক।’
আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে মনোবিজ্ঞানী, ‘কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘সামজিক অস্থিরতা আত্মহত্যার প্রধান কারণ। পারিবারিক বন্ধনের অভাব, মাদক, হতাশা, পারস্পরিক সহমর্মিতার অভাব এবং দুঃখ ও হতাশা প্রকাশের সুযোগ না পেয়ে মানুষ আত্মহত্যা করেন।’