গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার দামোদরপুর ও কামারপাড়া ইউনিয়নের দুই গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা বলে তিন শতাধিকের বেশি পরিবারের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফারুক মন্ডল ও আবদুল মাজেদ নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনেও কথামতো বিদ্যুৎ সংযোগ না পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে এখন অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি তাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেও মিলছে না প্রতিকার।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার দক্ষিণ দামোদরপুর (দুলা আকন্দপাড়া) ও হাটবামুনী গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নানান সময় বিদ্যুৎ সংযোগের দাবি জানিয়ে আসলেও তাদের সে দাবি পূরণ হয়নি। এই সুযোগে ফারুক ও মাজেদ দুই গ্রামের মানুষের তিন শতাধিক পরিবারের কাছ থেকে এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু টাকা দেওয়ার এক বছরের বেশি সময় পার হলেও গ্রাম দু’টিতে বিদ্যুতের খুঁটি বসেনি।
স্থানীয়দের দাবি, এর মধ্যে দক্ষিণ দামোদরপুর গ্রামে সরকারিভাবেই বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে খুঁটি বসানো ও লাইন টানার কাজও শেষ হয়েছে। কিন্তু ফারুক ও মাজেদ আবারও গ্রাহকদের কাছে ওয়ারিং করার কথা বলে টাকা দাবি করছে। এমনকি, টাকা না দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দিয়েছে তারা।
দক্ষিণ দামোদরপুর গ্রামের (দুলা আকন্দপাড়া) দরিদ্র ভ্যানচালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এক বছর আগে আমি আমার মিটার ও বাড়ির অন্য আরও দু’টি মিটারের জন্য তিন ধাপে ৯ হাজার ১৬০ টাকা দিই ফারুক ও মাজেদকে। এখন টাকা চেয়ে তা ফেরত পাচ্ছি না।’
শুধু জাহিদুল ইসলামই নন, তার মতো জহির, মোহাব্বর, কাশেম, তাহের, নওশা, সাইদুরসহ প্রায় ৬৫ জন ফারুক ও মাজেদকে এক হাজার থেকে ৪ হাজার পাঁচশ’ টাকা করে তুলে দেন। তারা জানান, পাশের দক্ষিণ হাটবামুনি গ্রামের ফারুকের স্ত্রী সুফিয়া বেগম পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির ৮নং গ্রামের পরিচালক। এই পরিচয়ে ফারুক দক্ষিণ দামোদরপুর গ্রামের আবদুল মাজেদকে দিয়ে গ্রামের মানুষের কাছে টাকা তুলেন।
দামোদরপুর গ্রামের কাশেম ও তাহের জানান, টাকা ফেরত না পাওয়া নিয়ে দুই গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দু’দফায় সালিশ হয়। সালিসে আবদুল মাজেদ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকারও করে। কিন্তু সালিসের পর সে টাকা ফেরত না দিয়ে শুরু করে বাহনা। আর এখন টাকা ফেরত চাইলে সে ভুক্তভোগীদের হুমকি দিচ্ছে।
কাশেম ও তাহের আরও জানান, একইভাবে ফারুক নিজে ও তার লোকজন দিয়ে কামারপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিল হাটবামুনী গ্রামের মসজিদ, মন্দির, দোকানপাটসহ ২৪০ পরিবারের কাছে টাকা হাতিয়ে নেয়।
হাটবামুনী গ্রামের উজ্জল মিয়া বলেন, ‘বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা বলে ফারুক গ্রামের মানুষের কাছে দুই হাজার করে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর থেকে সে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে না পেরে নানা রকম বাহনা শুরু করে। এখন বিদ্যুৎও নাই, টাকাও নাই। এ নিয়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।’
ফারুক তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তার স্ত্রী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন পরিচালক। এলাকার অনেকে বিদ্যুৎ সুবিধার জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেও গ্রামের মানুষদের বিদ্যুত সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে চেষ্টা করে। কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগছে। তবে কারও কাছে নিজে টাকা নেয়নি বলে জানায়।
তবে ফারুকের সহযোগী মাজেদ গ্রাহকের কাছে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে জানায়, বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য নয়; ঘর ওয়ারিং করে দেওয়ার জন্য সে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে।
ইউএনও অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়রা ইউএনও আলমগীর হোসেন আকন্দ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে আলমগীর হোসেন আকন্দ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরহাদ ইমরুল কায়েস বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্তে টাকা আদায়ের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।