ঠিকানা’র চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামন রুমেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বৃদ্ধা মায়ের দায়িত্ব নিয়েছি। নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করেছি। পাশে আরেকটি পরিবার রয়েছে। ওই পরিবারের হাতে খাবার রান্না করে দেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে টাকাও দিয়েছি। নিয়মিত আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘বন্যার পানি নেমে গেলেই আমরা তার ঘরটি মেরামত করে দেব।’
ময়মন বেগম দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জননী। ১৯৮৮ সালে বন্যার সময় মারা যান তার স্বামী। বছর দশেক আগে ছোট ছেলেটাও ক্যান্সারে মারা যায়। বড় ছেলে নয়েজ মিয়া। মাছের ব্যবসা করেন। একই বাড়িতে থেকেও মাকে দু’মুঠো ভাত পর্যন্ত দেন না তিনি বলে অভিযোগ করেছেন এই বৃদ্ধা। মেয়ে জয়ফুন বেগম। একই এলাকায় বিয়ে হয়েছে। তিনিও এখন বুড়ো মায়ের খবর পর্যন্ত নেন না। তাই টাঙ্গাইলের বাসাইল পূর্ব পাড়ার একটি ঝুপড়িতে থাকতেন বৃদ্ধ ময়মন বেগম। সম্প্রতি বন্যার পানি ওঠায় নিজের ঘরটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এ নারী। গত মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) বিকালে তিনি এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান থাকার জন্য। কিন্তু সন্ধ্যা নামার পরে আত্মীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিত্যক্ত ভবনে ফেলে রেখে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবনে কয়েকদিন থেকে অবস্থান নিয়েছেন বন্যাদুর্গত ঘরহারানো কয়েকজন মানুষ। এখন সেখানেই আছেন ময়মন বেগম। গত কয়েক দিন ধরেই অনাহারে-অর্ধহারে কিংবা পাশে থাকা অন্যের খাবার খাচ্ছেন এ শতবর্ষী নারী।
রবিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাসাইল পৌরসভার মেয়র মজিবর রহমান বলেন, ‘আমি বৃদ্ধার ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে কথা বলেছি। ওরা ভরণপোষণ করাতে রাজি আছে। কিন্তু বৃদ্ধা বাড়িতে যাচ্ছেন না।’
বাসাইল পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. খলিলুর রহমান রবিবার সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। এখনই আমি হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সায়মা আক্তার বাসাইল থেকে বৃহস্পতিবার বদলি হয়েছেন। নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা যোগদান না করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:
পরিত্যক্ত ভবনে মায়াবী কান্নার সুর!